ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভুয়া সনদ রোধের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম ও বিশ্বস্ততা অক্ষুণ্ণ রাখতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সনদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে এনএসডিএ প্রতিষ্ঠার পর এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা; এর আগে ২০২২ সালে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ একটি অত্যন্ত কার্যকর কাঠামো। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ভুয়া সনদ ও প্রতারণার কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদেশি নিয়োগকর্তারা যদি আমাদের কর্মীদের সনদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তবে দক্ষতা উন্নয়নের সব উদ্যোগই ব্যর্থ হবে। তাই জালিয়াতি চক্র রোধ করে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ‘ব্র্যান্ড ইমেজ’ তৈরি করতে হবে, যাতে নিয়োগকর্তারা নির্দ্বিধায় বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর ভরসা করতে পারেন।

অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এনএসডিএ-এর অধীনে সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে একটি অভিন্ন ও মানসম্মত সনদ ব্যবস্থা চালু হলে জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে। এ সময় তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে তাদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যাতে আরও স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় একটি সমন্বিত ‘দক্ষতা ইকোসিস্টেম’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোর জন্য একটি অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় কমবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি সনদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে দক্ষ জনশক্তি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সহজতর হবে বলে সভায় জানানো হয়।

এছাড়া, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএ-এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রাগুলো সভায় অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উদীয়মান খাতগুলোতে ‘স্কিলস গ্যাপ অ্যানালাইসিস’ বা দক্ষতার ঘাটতি নিরূপণ, সকল উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ-এর মানদণ্ডের আওতায় আনা এবং বাংলাদেশের জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিশাল জনবলকে ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’ (আরপিএল) প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় সনদের আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সিডিসি (কন্টিনিউয়াস ডিসচার্জ সার্টিফিকেট) প্রদানের বিষয়টি নিয়েও গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভুয়া সনদ রোধের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট সময় : ০৬:১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম ও বিশ্বস্ততা অক্ষুণ্ণ রাখতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সনদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে এনএসডিএ প্রতিষ্ঠার পর এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা; এর আগে ২০২২ সালে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ একটি অত্যন্ত কার্যকর কাঠামো। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ভুয়া সনদ ও প্রতারণার কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদেশি নিয়োগকর্তারা যদি আমাদের কর্মীদের সনদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তবে দক্ষতা উন্নয়নের সব উদ্যোগই ব্যর্থ হবে। তাই জালিয়াতি চক্র রোধ করে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ‘ব্র্যান্ড ইমেজ’ তৈরি করতে হবে, যাতে নিয়োগকর্তারা নির্দ্বিধায় বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর ভরসা করতে পারেন।

অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এনএসডিএ-এর অধীনে সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে একটি অভিন্ন ও মানসম্মত সনদ ব্যবস্থা চালু হলে জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে। এ সময় তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে তাদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যাতে আরও স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় একটি সমন্বিত ‘দক্ষতা ইকোসিস্টেম’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোর জন্য একটি অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় কমবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি সনদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে দক্ষ জনশক্তি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সহজতর হবে বলে সভায় জানানো হয়।

এছাড়া, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএ-এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রাগুলো সভায় অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উদীয়মান খাতগুলোতে ‘স্কিলস গ্যাপ অ্যানালাইসিস’ বা দক্ষতার ঘাটতি নিরূপণ, সকল উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ-এর মানদণ্ডের আওতায় আনা এবং বাংলাদেশের জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিশাল জনবলকে ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’ (আরপিএল) প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় সনদের আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সিডিসি (কন্টিনিউয়াস ডিসচার্জ সার্টিফিকেট) প্রদানের বিষয়টি নিয়েও গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।