ঢাকা ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

উখিয়ায় যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: ঘর ভাড়া নিয়ে থাকা শিশুসহ ৬২২ রোহিঙ্গা আটক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের উখিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। রোববার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের বেষ্টনী পেরিয়ে বাইরে অবৈধভাবে বসবাসরত শিশু ও নারীসহ মোট ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ঘর ভাড়া দেওয়ার অপরাধে স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির মালিককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত ৬২২ জন রোহিঙ্গার মধ্যে ২১১ জন পুরুষ, ১৯৬ জন নারী এবং ২০০ জন শিশু রয়েছে। তারা উখিয়ার পালংখালী, থাইংখালী ও বালুখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। আটক এসব রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে আশ্রয় ও ঘর ভাড়া দেওয়ার দায়ে ১৩টি পৃথক মামলায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তিন বাড়ির মালিককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পালংখালী ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ ও আজিজুর রহমানকে ৭ দিন এবং অন্য এক ব্যক্তিকে ৩০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি শাহিনা আক্তার, সাজু বেগম ও হারুনসহ ৯ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে বিভিন্ন অংকের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদকসহ আটক হওয়া একজনকে ২০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ ও বসবাসের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি রোধে যৌথবাহিনীর এই পদক্ষেপকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানান, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং ক্যাম্পের বাইরের অবৈধ অবস্থান বন্ধে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। আইন অমান্য করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দাতা ও অবৈধভাবে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

উখিয়া থানা পুলিশ ও এপিবিএন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। উখিয়া ৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাইরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা নগরবাসী, তদারকিতে অনীহা বিইআরসির

উখিয়ায় যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: ঘর ভাড়া নিয়ে থাকা শিশুসহ ৬২২ রোহিঙ্গা আটক

আপডেট সময় : ০৬:১১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের উখিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। রোববার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের বেষ্টনী পেরিয়ে বাইরে অবৈধভাবে বসবাসরত শিশু ও নারীসহ মোট ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ঘর ভাড়া দেওয়ার অপরাধে স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির মালিককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত ৬২২ জন রোহিঙ্গার মধ্যে ২১১ জন পুরুষ, ১৯৬ জন নারী এবং ২০০ জন শিশু রয়েছে। তারা উখিয়ার পালংখালী, থাইংখালী ও বালুখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। আটক এসব রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে আশ্রয় ও ঘর ভাড়া দেওয়ার দায়ে ১৩টি পৃথক মামলায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তিন বাড়ির মালিককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পালংখালী ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ ও আজিজুর রহমানকে ৭ দিন এবং অন্য এক ব্যক্তিকে ৩০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি শাহিনা আক্তার, সাজু বেগম ও হারুনসহ ৯ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে বিভিন্ন অংকের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদকসহ আটক হওয়া একজনকে ২০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ ও বসবাসের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি রোধে যৌথবাহিনীর এই পদক্ষেপকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানান, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং ক্যাম্পের বাইরের অবৈধ অবস্থান বন্ধে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। আইন অমান্য করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দাতা ও অবৈধভাবে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

উখিয়া থানা পুলিশ ও এপিবিএন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। উখিয়া ৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাইরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।