আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো যখন তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করছে, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্প ১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর প্রধান দলগুলোর ইশতেহার একটি ওয়েবসাইটে একত্রিত করেছে। এই উদ্যোগটি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত নতুন ইশতেহারগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। “বাংলাদেশের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার” শীর্ষক এই গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন আলী রীয়াজ এবং এম এম মুসা।
এই ওয়েবসাইটটির মূল উদ্দেশ্য হলো, ১৯৯১ সালের পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং কী ধরনের কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিল, তা গবেষক, সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিকদের সহজে উপলব্ধ করা। এই ডাটাবেজে বিভিন্ন দলের প্রকাশিত ইশতেহারগুলো একত্রিত করার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
গবেষণা প্রকল্পের বর্ণনায় গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে আইনসভায় পাঠান। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেশের শাসনব্যবস্থায় নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে। নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দলগুলো কেবল প্রার্থী মনোনয়নই দেয় না, বরং তাদের আদর্শিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সংবলিত ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ও প্রকাশ করে।
নির্বাচনী ইশতেহারকে নাগরিকদের কাছে দলের প্রতিশ্রুতি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই দেশ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত দলটির পরবর্তী কার্যক্রম বিচার করা সম্ভব হয়।
এই গবেষণা প্রকল্পের অন্যতম গবেষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশ (এআইবিএস)-এর প্রেসিডেন্ট। তিনি বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে উপদেষ্টা পদে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে, এম এম মুসা একজন লেখক ও গবেষক, যিনি পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতা করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করে আসছেন।
রিপোর্টারের নাম 























