ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ৩৪ দফা ইশতেহার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৪ দফার এই বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এতে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নির্বাচন মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। দলের সহ-সভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা মাস‌উদুল করিমসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ঘোষিত ইশতেহারে ইসলামি মূল্যবোধের সংরক্ষণ, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, এই ৩৪ দফা ইশতেহার মূলত দেশের বিদ্যমান নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি বাস্তবসম্মত সনদ। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং জনগণের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ। এ ছাড়া কওমি ও আলিয়া মাদরাসার পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও দলটির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিককে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক সামরিক ও আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রস্তাব করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। দলটির মতে, যেকোনো জাতীয় সংকট বা বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ও দক্ষ প্রহরীরূপে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ দেশের সার্বিক উন্নয়নে এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে দেশবাসীকে এই ইশতেহারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা আগামী নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ৩৪ দফা ইশতেহার

আপডেট সময় : ০৬:০১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৪ দফার এই বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এতে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নির্বাচন মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। দলের সহ-সভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা মাস‌উদুল করিমসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ঘোষিত ইশতেহারে ইসলামি মূল্যবোধের সংরক্ষণ, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, এই ৩৪ দফা ইশতেহার মূলত দেশের বিদ্যমান নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি বাস্তবসম্মত সনদ। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং জনগণের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ। এ ছাড়া কওমি ও আলিয়া মাদরাসার পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও দলটির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিককে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক সামরিক ও আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রস্তাব করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। দলটির মতে, যেকোনো জাতীয় সংকট বা বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ও দক্ষ প্রহরীরূপে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ দেশের সার্বিক উন্নয়নে এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে দেশবাসীকে এই ইশতেহারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা আগামী নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।