ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারি বিজয়ের অঙ্গীকার, ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের দৃঢ় প্রত্যয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১১ আসনের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী নাহিদ ইসলাম আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে দৃঢ় বিজয় অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, “৫ আগস্ট যেভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই ১২ ফেব্রুয়ারিকেও আমরা সফল করব। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব।”

রোববার সকালে বাড্ডায় আয়োজিত এনসিপি-র এক নির্বাচনী জনসভায় নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। তিনি শুধু ঢাকা-১১ আসন নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশে তাদের বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলে জানান। তিনি ১১-দলীয় ঐক্যজোটকে ‘সরকার গঠনের ঐক্যজোট’ এবং ‘আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার ঐক্যজোট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এই জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “১১-দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃত্বে আপনারা সারা বাংলাদেশে যেখানেই থাকুন না কেন, যে মার্কা বা যে প্রার্থীই থাকুক না কেন, তাদের সহযোগিতা করুন এবং ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আনুন। এই আহ্বান আপনাদের সকলের প্রতি।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে দখলদারমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত এবং সন্ত্রাসমুক্ত করা। আপনারা কি ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন? ইনশাআল্লাহ, আমরা তরুণ ও যুবসমাজ সবাই আছি। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আমরা ব্যর্থ হই, তবে ৫ আগস্টের অর্জনও ব্যর্থ হয়ে যাবে।”

তিনি দেশের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশে এমন একটি দল রয়েছে যারা বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনাকে আমাদের পরাজিত করতে হবে।”

ঢাকা-১১ আসনের নাগরিক সুবিধা ও উন্নয়নের অভাবের চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই আসনে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, স্কুল এবং হাসপাতালের অভাব প্রকট। তিনি বলেন, প্রায় সব কিছুই এখন বেসরকারি খাতের উপর নির্ভরশীল। কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই, এবং সরকারি হাইস্কুলের অস্তিত্বও নেই। মাত্র ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি নির্ভর। বর্ষাকালে প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়, যা জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকা সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে, বাকি ৭০ শতাংশ এলাকা অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, নর্দমা এবং পার্শ্ববর্তী খালের উপর নির্ভরশীল। রামপুরা খাল ও শাহজাদপুর খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো এখন আর স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারিয়েছে।

এই অঞ্চলের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে তিনি রাজনৈতিক কারণ এবং ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করেন। শত শত মানুষের জমি, সরকারি খাস জমি এবং সাধারণ জলাশয়গুলো দখল করে ভরাট করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়েছে।

এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি এখানকার নাগরিকদের সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবেন। যারা ভূমি হারিয়েছেন, তাদের ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, অথবা তাদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এই ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেটকে ঢাকা-১১ থেকে আমরা চিরতরে নির্মূল করব।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

১২ ফেব্রুয়ারি বিজয়ের অঙ্গীকার, ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের দৃঢ় প্রত্যয়

আপডেট সময় : ০২:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১১ আসনের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী নাহিদ ইসলাম আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে দৃঢ় বিজয় অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, “৫ আগস্ট যেভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই ১২ ফেব্রুয়ারিকেও আমরা সফল করব। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব।”

রোববার সকালে বাড্ডায় আয়োজিত এনসিপি-র এক নির্বাচনী জনসভায় নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। তিনি শুধু ঢাকা-১১ আসন নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশে তাদের বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলে জানান। তিনি ১১-দলীয় ঐক্যজোটকে ‘সরকার গঠনের ঐক্যজোট’ এবং ‘আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার ঐক্যজোট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এই জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “১১-দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃত্বে আপনারা সারা বাংলাদেশে যেখানেই থাকুন না কেন, যে মার্কা বা যে প্রার্থীই থাকুক না কেন, তাদের সহযোগিতা করুন এবং ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আনুন। এই আহ্বান আপনাদের সকলের প্রতি।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে দখলদারমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত এবং সন্ত্রাসমুক্ত করা। আপনারা কি ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন? ইনশাআল্লাহ, আমরা তরুণ ও যুবসমাজ সবাই আছি। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আমরা ব্যর্থ হই, তবে ৫ আগস্টের অর্জনও ব্যর্থ হয়ে যাবে।”

তিনি দেশের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশে এমন একটি দল রয়েছে যারা বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনাকে আমাদের পরাজিত করতে হবে।”

ঢাকা-১১ আসনের নাগরিক সুবিধা ও উন্নয়নের অভাবের চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই আসনে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, স্কুল এবং হাসপাতালের অভাব প্রকট। তিনি বলেন, প্রায় সব কিছুই এখন বেসরকারি খাতের উপর নির্ভরশীল। কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই, এবং সরকারি হাইস্কুলের অস্তিত্বও নেই। মাত্র ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি নির্ভর। বর্ষাকালে প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়, যা জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকা সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে, বাকি ৭০ শতাংশ এলাকা অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, নর্দমা এবং পার্শ্ববর্তী খালের উপর নির্ভরশীল। রামপুরা খাল ও শাহজাদপুর খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো এখন আর স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারিয়েছে।

এই অঞ্চলের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে তিনি রাজনৈতিক কারণ এবং ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করেন। শত শত মানুষের জমি, সরকারি খাস জমি এবং সাধারণ জলাশয়গুলো দখল করে ভরাট করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়েছে।

এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি এখানকার নাগরিকদের সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবেন। যারা ভূমি হারিয়েছেন, তাদের ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, অথবা তাদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এই ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেটকে ঢাকা-১১ থেকে আমরা চিরতরে নির্মূল করব।”