ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

আসবাবে ঘুণপোকার হানা? শখের আসবাব সুরক্ষায় জেনে নিন জরুরি কিছু কৌশল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ঘরের আভিজাত্য আর রুচির প্রকাশ ঘটে কাঠের আসবাবে। বিশেষ করে সেগুন বা মেহগনি কাঠের আসবাব ঘরের শোভা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে এই শখের আসবাবের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ঘুণপোকা। সময়মতো সঠিক যত্ন না নিলে এই ক্ষুদ্র পোকা আপনার প্রিয় আসবাবটিকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেয়ে নিঃশেষ করে দিতে পারে। তাই আসবাবের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বিশেষ সতর্কতা।

ঘুণপোকা সাধারণত স্যাঁতসেঁতে ও আর্দ্র পরিবেশে বংশবিস্তার করে। তাই কাঠের আসবাব সবসময় শুকনো রাখা জরুরি। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে, তখন আসবাবের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে। কোনো কারণে আসবাবে পানি লাগলে দেরি না করে দ্রুত তা শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও হতে হবে সতর্ক। অনেকেই অজান্তে ভেজা কাপড় দিয়ে কাঠের আসবাব মোছেন, যা কাঠের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আসবাব পরিষ্কারে সবসময় শুকনো ও নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করা শ্রেয়। এছাড়া আসবাবে কোনো সূক্ষ্ম ছিদ্র বা ফাটল চোখে পড়লে দ্রুত মোম বা গালা দিয়ে তা বন্ধ করে দিন। কারণ এসব ছোট ছিদ্রপথেই ঘুণপোকা ভেতরে ঢুকে বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে।

আসবাবের সুরক্ষায় রঙের প্রলেপ বা বার্নিশ অত্যন্ত কার্যকর। দীর্ঘদিনের পুরনো আসবাবে নতুন করে বার্নিশ করালে এর স্থায়িত্ব বাড়ে। বার্নিশ বা রঙের কড়া গন্ধ ঘুণপোকাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

ঘরোয়া উপায়েও ঘুণপোকার উপদ্রব কমানো সম্ভব। পোকামাকড় তাড়াতে নিম তেলের কার্যকারিতা অপরিসীম। সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন নিম তেল স্প্রে করে আসবাব মুছে নিলে পোকার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া নারকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে আসবাবের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে। আরেকটি মোক্ষম দাওয়াই হলো চায়ের লিকার ও ভিনেগারের মিশ্রণ। দুধ-চিনি ছাড়া কড়া চায়ের লিকারের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করলে দ্রুত সুফল পাওয়া যায়।

যদি কোনো আসবাবে ঘুণ ধরতে শুরু করে, তবে সংক্রমণ এড়াতে দ্রুত সেটি অন্য আসবাব থেকে আলাদা করে ফেলুন। ঘুণ ধরেছে মানেই আসবাবটি ফেলে দিতে হবে এমন নয়। অভিজ্ঞ কারিগর ডেকে আক্রান্ত অংশটুকু ফেলে দিয়ে নতুন কাঠ দিয়ে মেরামত করিয়ে নিলেই আপনার প্রিয় আসবাবটি আবার আগের মতো হয়ে উঠবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

আসবাবে ঘুণপোকার হানা? শখের আসবাব সুরক্ষায় জেনে নিন জরুরি কিছু কৌশল

আপডেট সময় : ০১:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঘরের আভিজাত্য আর রুচির প্রকাশ ঘটে কাঠের আসবাবে। বিশেষ করে সেগুন বা মেহগনি কাঠের আসবাব ঘরের শোভা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে এই শখের আসবাবের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ঘুণপোকা। সময়মতো সঠিক যত্ন না নিলে এই ক্ষুদ্র পোকা আপনার প্রিয় আসবাবটিকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেয়ে নিঃশেষ করে দিতে পারে। তাই আসবাবের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বিশেষ সতর্কতা।

ঘুণপোকা সাধারণত স্যাঁতসেঁতে ও আর্দ্র পরিবেশে বংশবিস্তার করে। তাই কাঠের আসবাব সবসময় শুকনো রাখা জরুরি। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে, তখন আসবাবের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে। কোনো কারণে আসবাবে পানি লাগলে দেরি না করে দ্রুত তা শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও হতে হবে সতর্ক। অনেকেই অজান্তে ভেজা কাপড় দিয়ে কাঠের আসবাব মোছেন, যা কাঠের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আসবাব পরিষ্কারে সবসময় শুকনো ও নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করা শ্রেয়। এছাড়া আসবাবে কোনো সূক্ষ্ম ছিদ্র বা ফাটল চোখে পড়লে দ্রুত মোম বা গালা দিয়ে তা বন্ধ করে দিন। কারণ এসব ছোট ছিদ্রপথেই ঘুণপোকা ভেতরে ঢুকে বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে।

আসবাবের সুরক্ষায় রঙের প্রলেপ বা বার্নিশ অত্যন্ত কার্যকর। দীর্ঘদিনের পুরনো আসবাবে নতুন করে বার্নিশ করালে এর স্থায়িত্ব বাড়ে। বার্নিশ বা রঙের কড়া গন্ধ ঘুণপোকাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

ঘরোয়া উপায়েও ঘুণপোকার উপদ্রব কমানো সম্ভব। পোকামাকড় তাড়াতে নিম তেলের কার্যকারিতা অপরিসীম। সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন নিম তেল স্প্রে করে আসবাব মুছে নিলে পোকার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া নারকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে আসবাবের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে। আরেকটি মোক্ষম দাওয়াই হলো চায়ের লিকার ও ভিনেগারের মিশ্রণ। দুধ-চিনি ছাড়া কড়া চায়ের লিকারের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করলে দ্রুত সুফল পাওয়া যায়।

যদি কোনো আসবাবে ঘুণ ধরতে শুরু করে, তবে সংক্রমণ এড়াতে দ্রুত সেটি অন্য আসবাব থেকে আলাদা করে ফেলুন। ঘুণ ধরেছে মানেই আসবাবটি ফেলে দিতে হবে এমন নয়। অভিজ্ঞ কারিগর ডেকে আক্রান্ত অংশটুকু ফেলে দিয়ে নতুন কাঠ দিয়ে মেরামত করিয়ে নিলেই আপনার প্রিয় আসবাবটি আবার আগের মতো হয়ে উঠবে।