ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আধিপত্যবাদের প্রতিবাদে ‘ভারত আউট’ আন্দোলনের ডাক: শহীদ মিনারে বিশাল সমাবেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ, জাতীয় সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র এবং ক্রীড়াঙ্গনে দাদাগিরির প্রতিবাদে ‘ভারত আউট’ ও ‘ইন্ডিয়া বয়কট’-এর ডাক দিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’। শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘র‌্যালি ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশাল সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ডাকসুর সাবেক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৫৪ বছর ধরে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে ভূমিকা না রেখে বরং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশটিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করা, অভিন্ন নদ-নদীতে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি এবং পানিবণ্টন চুক্তিতে অনীহার মতো বিষয়গুলো ভারতের ‘বন্ধুত্বহীন’ আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের ভারত আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়া আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। জনমত উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে ক্ষমতায় বসানোর ‘সিলেকশন’ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন নেতারা।

ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের সমালোচনা করে ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বর্তমানে ভারতের প্রভাবে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’-এ পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করার পেছনে দিল্লির হাত রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এছাড়া ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি ফুটবল দলের অনুশীলনে অসহযোগিতা এবং ক্রীড়াঙ্গনে নানামুখী হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

সমাবেশে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে তিনি দেশীয় তদন্ত সংস্থার পরিবর্তে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া এই নগ্ন হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।

ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিনিধিরা সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি হামলার বর্ণনা দিয়ে বলেন, যৌথবাহিনীর বাধার মুখে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই হামলায় জড়িত ও নির্দেশদাতা কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্তই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগের ‘শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে’ গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘ভারত আউট’ ও ‘ইন্ডিয়া বয়কট’ স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আধিপত্যবাদের প্রতিবাদে ‘ভারত আউট’ আন্দোলনের ডাক: শহীদ মিনারে বিশাল সমাবেশ

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ, জাতীয় সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র এবং ক্রীড়াঙ্গনে দাদাগিরির প্রতিবাদে ‘ভারত আউট’ ও ‘ইন্ডিয়া বয়কট’-এর ডাক দিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’। শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘র‌্যালি ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশাল সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ডাকসুর সাবেক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৫৪ বছর ধরে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে ভূমিকা না রেখে বরং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশটিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করা, অভিন্ন নদ-নদীতে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি এবং পানিবণ্টন চুক্তিতে অনীহার মতো বিষয়গুলো ভারতের ‘বন্ধুত্বহীন’ আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের ভারত আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়া আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। জনমত উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে ক্ষমতায় বসানোর ‘সিলেকশন’ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন নেতারা।

ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের সমালোচনা করে ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বর্তমানে ভারতের প্রভাবে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’-এ পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করার পেছনে দিল্লির হাত রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এছাড়া ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি ফুটবল দলের অনুশীলনে অসহযোগিতা এবং ক্রীড়াঙ্গনে নানামুখী হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

সমাবেশে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে তিনি দেশীয় তদন্ত সংস্থার পরিবর্তে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া এই নগ্ন হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।

ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিনিধিরা সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি হামলার বর্ণনা দিয়ে বলেন, যৌথবাহিনীর বাধার মুখে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই হামলায় জড়িত ও নির্দেশদাতা কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্তই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগের ‘শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে’ গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘ভারত আউট’ ও ‘ইন্ডিয়া বয়কট’ স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।