বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং আঞ্চলিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এই দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানে ভারত ও চীনের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে। তিনি মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেবল একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, বরং তা হতে হবে দুই দেশের জনগণের বৃহত্তর কল্যাণে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তারেক রহমান জানান, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি ভারতের সঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক চায় যেখানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বেইজিংয়ের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার পাশাপাশি নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন তিনি।
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়ার বিষয়েও তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যখন শক্তিশালী হবে, তখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার মর্যাদা ও দরকষাকষির ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
পরিশেষে, তারেক রহমানের এই অবস্থান থেকে এটি স্পষ্ট যে, বিএনপি ভবিষ্যতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করতে চায়, যেখানে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে ভারত ও চীন—উভয় দেশের সঙ্গেই টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















