ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইল-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বিএনপির পথে কাঁটা স্বতন্ত্র ও জামায়াত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনটি নিজেদের করে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ তিন যুগ পর এই আসন পুনরুদ্ধারের হাতছানি দেখছে দলটি। তবে তাদের এই স্বপ্ন পূরণের পথে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান। মূলত এই তিন প্রার্থীর মধ্যেই আসনটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

টাঙ্গাইল-৮ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—বিএনপি মনোনীত কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান (প্রতীক: ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর টাঙ্গাইল জেলা সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম খান (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর (প্রতীক: হরিণ)। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মো. নাজমুল হাসান (লাঙ্গল), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহামুদ (কোদাল) এবং আমজনতার দলের প্রার্থী আলমগীর হোসেন (প্রজাপতি)। উল্লেখ্য, আমজনতার দল মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেন এরই মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৩০৮ জন। বাসাইল উপজেলার একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন এবং সখিপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকা। উভয় উপজেলাতেই নারী ও প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ এই আসনে জয়লাভ করেছিল বিএনপি। এরপর থেকে আসনটি তাদের হাতছাড়া। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর আসনটি পুনরুদ্ধারে তাই এবার মরিয়া বিএনপি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশাল কর্মী বাহিনী থাকায় জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মীকে নিজের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংকও আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে বলে জানা গেছে।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী এবারের নির্বাচন বর্জন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে সমর্থন দেওয়ায় ভোটের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে। সালাউদ্দিন আলমগীর আওয়ামী ঘরানার ব্যক্তি এবং শেখ ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক সহযোগী হওয়ায় তিনি আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে দুটি উপজেলাতেই। তাদের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান বাসাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে বাসাইল উপজেলায় তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে, যা তাকে এই নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরে পরিণত করতে পারে।

নির্বাচনী মাঠের তথ্য অনুযায়ী, বাসাইলের তুলনায় সখিপুর উপজেলায় প্রায় এক লাখ ভোট বেশি। যদিও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীর কেউই সখিপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা নন। বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান বাসাইল উপজেলার সন্তান। স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের পৈতৃক বাড়ি কালিহাতী উপজেলায় হলেও, তার নানাবাড়ি সখিপুরে। এই কারণে ধারণা করা হচ্ছে, যে প্রার্থী সখিপুর উপজেলা থেকে বেশি ভোট সংগ্রহ করতে পারবেন, বিজয়ের হাসি তিনিই হাসবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অমর একুশে বইমেলায় ইফতারের ভিন্ন চিত্র: বই আর মানুষের মিলনমেলা

টাঙ্গাইল-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বিএনপির পথে কাঁটা স্বতন্ত্র ও জামায়াত

আপডেট সময় : ১০:২১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনটি নিজেদের করে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ তিন যুগ পর এই আসন পুনরুদ্ধারের হাতছানি দেখছে দলটি। তবে তাদের এই স্বপ্ন পূরণের পথে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান। মূলত এই তিন প্রার্থীর মধ্যেই আসনটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

টাঙ্গাইল-৮ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—বিএনপি মনোনীত কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান (প্রতীক: ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর টাঙ্গাইল জেলা সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম খান (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর (প্রতীক: হরিণ)। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মো. নাজমুল হাসান (লাঙ্গল), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহামুদ (কোদাল) এবং আমজনতার দলের প্রার্থী আলমগীর হোসেন (প্রজাপতি)। উল্লেখ্য, আমজনতার দল মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেন এরই মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৩০৮ জন। বাসাইল উপজেলার একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন এবং সখিপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকা। উভয় উপজেলাতেই নারী ও প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ এই আসনে জয়লাভ করেছিল বিএনপি। এরপর থেকে আসনটি তাদের হাতছাড়া। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর আসনটি পুনরুদ্ধারে তাই এবার মরিয়া বিএনপি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশাল কর্মী বাহিনী থাকায় জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মীকে নিজের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংকও আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে বলে জানা গেছে।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী এবারের নির্বাচন বর্জন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে সমর্থন দেওয়ায় ভোটের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে। সালাউদ্দিন আলমগীর আওয়ামী ঘরানার ব্যক্তি এবং শেখ ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক সহযোগী হওয়ায় তিনি আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে দুটি উপজেলাতেই। তাদের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান বাসাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে বাসাইল উপজেলায় তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে, যা তাকে এই নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরে পরিণত করতে পারে।

নির্বাচনী মাঠের তথ্য অনুযায়ী, বাসাইলের তুলনায় সখিপুর উপজেলায় প্রায় এক লাখ ভোট বেশি। যদিও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীর কেউই সখিপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা নন। বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান বাসাইল উপজেলার সন্তান। স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের পৈতৃক বাড়ি কালিহাতী উপজেলায় হলেও, তার নানাবাড়ি সখিপুরে। এই কারণে ধারণা করা হচ্ছে, যে প্রার্থী সখিপুর উপজেলা থেকে বেশি ভোট সংগ্রহ করতে পারবেন, বিজয়ের হাসি তিনিই হাসবেন।