ঢাকা ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া শিক্ষা আইন-২০২৬ প্রণয়ন সমীচীন নয়: শিক্ষা অধিকার সংসদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন, ২০২৬ দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষা অধিকার সংসদ। সংগঠনটির মতে, নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত মেয়াদকালে জনসম্পৃক্ততা, অংশীজনদের মতামত গ্রহণ ও জাতীয় ঐকমত্য ছাড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা উচিত নয়।

শনিবার সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা আইন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন আইন। এই ধরনের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অংশগ্রহণ, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং ব্যাপক নাগরিক আলোচনার সুযোগ থাকা অপরিহার্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি অনুমোদন পেলে গণতান্ত্রিক আলোচনা ও অংশগ্রহণের সেই সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, খসড়া শিক্ষা আইনে মূলত বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। ভবিষ্যৎমুখী সংস্কার, কাঠামোগত পরিবর্তন ও গুণগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক দিকনির্দেশনার সুস্পষ্ট প্রতিফলন এতে অনুপস্থিত। পাশাপাশি, যেসব জরুরি ও নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আইন দ্বারা নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন, সেগুলোর অনেকটাই বিধিমালার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

শিক্ষা অধিকার সংসদ খসড়া আইনে কিছু সংজ্ঞাগত অস্পষ্টতা, শাসন কাঠামোর অনির্দিষ্টতা এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত দিকনির্দেশনার অভাবের কথাও উল্লেখ করেছে। এই দুর্বলতাগুলো ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত সংকট তৈরি করতে পারে বলে তারা মনে করে।

সংগঠনটির মতে, শিক্ষা আইন প্রণয়নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বিদ্যমান ও প্রচলিত নীতিমালা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধানের জন্য বাধ্যতামূলক আইনি ধারা সংযোজন করা। একই সঙ্গে, দীর্ঘমেয়াদে গুণগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিস্তারে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সেগুলো আইন দ্বারা সুরক্ষিত করা প্রয়োজন, যাতে রাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই ২০২৪-এর পর একটি স্বাধীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থায়ী শিক্ষা সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের সামগ্রিক সংস্কার বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা অধিকার সংসদ প্রস্তাব করছে, শিক্ষা আইন, ২০২৬ বর্তমান পর্যায়ে অনুমোদন না দিয়ে বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া হোক। এতে সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও সর্বজনগ্রাহ্য শিক্ষা আইন প্রণয়ন সম্ভব হবে।

শিক্ষা অধিকার সংসদের আহ্বায়ক অধ্যাপক এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ বিবৃতিতে বলেন, গত দেড় বছর ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনায় শিক্ষা খাত সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। তড়িঘড়ি করে শিক্ষা আইন প্রণয়ন সামগ্রিকভাবে দুর্বল ও সীমাবদ্ধ হবে। শিক্ষা সংস্কার সময়, সংলাপ ও ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে হওয়াই রাষ্ট্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সর্বোত্তম পথ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া শিক্ষা আইন-২০২৬ প্রণয়ন সমীচীন নয়: শিক্ষা অধিকার সংসদ

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন, ২০২৬ দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষা অধিকার সংসদ। সংগঠনটির মতে, নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত মেয়াদকালে জনসম্পৃক্ততা, অংশীজনদের মতামত গ্রহণ ও জাতীয় ঐকমত্য ছাড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা উচিত নয়।

শনিবার সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা আইন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন আইন। এই ধরনের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অংশগ্রহণ, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং ব্যাপক নাগরিক আলোচনার সুযোগ থাকা অপরিহার্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি অনুমোদন পেলে গণতান্ত্রিক আলোচনা ও অংশগ্রহণের সেই সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, খসড়া শিক্ষা আইনে মূলত বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। ভবিষ্যৎমুখী সংস্কার, কাঠামোগত পরিবর্তন ও গুণগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক দিকনির্দেশনার সুস্পষ্ট প্রতিফলন এতে অনুপস্থিত। পাশাপাশি, যেসব জরুরি ও নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আইন দ্বারা নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন, সেগুলোর অনেকটাই বিধিমালার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

শিক্ষা অধিকার সংসদ খসড়া আইনে কিছু সংজ্ঞাগত অস্পষ্টতা, শাসন কাঠামোর অনির্দিষ্টতা এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত দিকনির্দেশনার অভাবের কথাও উল্লেখ করেছে। এই দুর্বলতাগুলো ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত সংকট তৈরি করতে পারে বলে তারা মনে করে।

সংগঠনটির মতে, শিক্ষা আইন প্রণয়নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বিদ্যমান ও প্রচলিত নীতিমালা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধানের জন্য বাধ্যতামূলক আইনি ধারা সংযোজন করা। একই সঙ্গে, দীর্ঘমেয়াদে গুণগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিস্তারে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সেগুলো আইন দ্বারা সুরক্ষিত করা প্রয়োজন, যাতে রাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই ২০২৪-এর পর একটি স্বাধীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থায়ী শিক্ষা সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের সামগ্রিক সংস্কার বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা অধিকার সংসদ প্রস্তাব করছে, শিক্ষা আইন, ২০২৬ বর্তমান পর্যায়ে অনুমোদন না দিয়ে বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া হোক। এতে সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও সর্বজনগ্রাহ্য শিক্ষা আইন প্রণয়ন সম্ভব হবে।

শিক্ষা অধিকার সংসদের আহ্বায়ক অধ্যাপক এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ বিবৃতিতে বলেন, গত দেড় বছর ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনায় শিক্ষা খাত সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। তড়িঘড়ি করে শিক্ষা আইন প্রণয়ন সামগ্রিকভাবে দুর্বল ও সীমাবদ্ধ হবে। শিক্ষা সংস্কার সময়, সংলাপ ও ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে হওয়াই রাষ্ট্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সর্বোত্তম পথ।