একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি এ দেশে আর চলতে দেওয়া হবে না। ১৯৭১ সালে আমরা তাদের সাহায্য পেয়েছি, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। তারা কখনো প্রকৃত বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি।”
শনিবার সন্ধ্যায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মণ্ডলেরহাট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ভারত সবসময় নিজেদের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং বাংলাদেশের জনগণের সাথে বারবার প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, “এখনও তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এমন একটি গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে, যারা ভারতের নির্দেশনায় দেশ পরিচালনা করতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “একটি দল ভারতের মন জয় করার জন্য কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু দেশের জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা আর এসব ফাঁদে পা দেবে না।”
আজহারুল ইসলাম বলেন, অতীতে একটি দল দুর্নীতির বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল এবং আবারও ক্ষমতায় যেতে তারা ভারতের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রাজনীতি করছে। তিনি ব্যাংক লুট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে বলেন, “যারা নিজেদের দুর্নীতিমুক্ত বলে দাবি করে, তারাই তাদের দলে ব্যাংক লুটেরা, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের মনোনয়ন দিচ্ছে।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে এটিএম আজহার বলেন, “১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে আমরা কারও সঙ্গে শত্রুতামূলক আচরণ করব না। প্রতিবেশী দেশ যদি বন্ধুসুলভ আচরণ করে, আমরাও বন্ধুত্ব বজায় রাখব। তবে রাষ্ট্রের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো বন্ধুত্ব করা হবে না। ভারত যদি সত্যিকারের বন্ধু হতো, তাহলে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে এত নাটক করত না। আমরা তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায় করে ছাড়ব।”
তিনি আরও বলেন, “ব্যাংক লুটেরারা যদি আবার সংসদে যায়, তাহলে তারা বাকি ব্যাংকগুলোকেও দেউলিয়া করে ফেলবে। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে অর্থ পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ ও ব্যাংক লুটেরাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যারা নারীদের সম্মানহানি করে, তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তারা দেশপ্রেমিক হতে পারে না। তাদের কাছে নারীরা নিরাপদ নয়। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের বর্জন করতে হবে।”
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, নারী নির্যাতনকারী ও অর্থ পাচারকারীদের সরিয়ে দিতে হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে।”
রামনাথপুর ইউনিয়ন সভাপতি শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদী হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ ওসমানী, উপজেলা নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সভাপতি মাসুদ হাসান প্রামানিক, উপজেলা জামায়াতের আমির কামারুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
রিপোর্টারের নাম 

























