ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: আরব দেশগুলোর নিরপেক্ষ অবস্থান, বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চাপ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হলেও মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো এখনো সরাসরি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। যদিও যুদ্ধের আগুনে উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্ষতির শিকার হচ্ছে; তেলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পর্যটন খাত ধসে পড়েছে। এসব দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর ওপর নিয়মিতভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এসব দেশ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

এমনকি আরব দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতিসংঘে নিযুক্ত প্রতিনিধি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরানের আক্রমণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে তার দেশ অন্যতম। একই সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

উপসাগরীয় দেশগুলোর এমন ঘোষণার পর তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে অংশ না নেওয়ায় সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানবিরোধী মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধে যোগ না দিলে উপসাগরীয় দেশগুলোকে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে যে, ইরানে সামরিক অভিযানের জন্য সৌদি আরব সে দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়নি।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। লিন্ডসে গ্রাহাম এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার যতটুকু ধারণা, সৌদি আরব তাদের সামরিক বাহিনীকে বর্বর ও সন্ত্রাসী ইরানি শাসনব্যবস্থাকে নির্মূল করার জন্য ব্যবহার করতে অস্বীকার করছে—যারা এ অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে এবং সাতজন আমেরিকানকে হত্যা করেছে।’ তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ভালো করেই জানে, এই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। মার্কিন ঘাঁটি থাকার কারণে তারা ইতোমধ্যেই যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা পূরণ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে এর জন্য কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। এই দুটি দেশই ইরানের সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে। কারণ, ইরানিদের কাছে এমন তথ্য ছিল যে এই দেশ দুটো থেকে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ দেশ ও জোটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তদন্ত: তালিকায় বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: আরব দেশগুলোর নিরপেক্ষ অবস্থান, বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চাপ

আপডেট সময় : ০৯:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হলেও মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো এখনো সরাসরি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। যদিও যুদ্ধের আগুনে উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্ষতির শিকার হচ্ছে; তেলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পর্যটন খাত ধসে পড়েছে। এসব দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর ওপর নিয়মিতভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এসব দেশ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

এমনকি আরব দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতিসংঘে নিযুক্ত প্রতিনিধি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরানের আক্রমণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে তার দেশ অন্যতম। একই সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

উপসাগরীয় দেশগুলোর এমন ঘোষণার পর তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে অংশ না নেওয়ায় সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানবিরোধী মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধে যোগ না দিলে উপসাগরীয় দেশগুলোকে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে যে, ইরানে সামরিক অভিযানের জন্য সৌদি আরব সে দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়নি।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। লিন্ডসে গ্রাহাম এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার যতটুকু ধারণা, সৌদি আরব তাদের সামরিক বাহিনীকে বর্বর ও সন্ত্রাসী ইরানি শাসনব্যবস্থাকে নির্মূল করার জন্য ব্যবহার করতে অস্বীকার করছে—যারা এ অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে এবং সাতজন আমেরিকানকে হত্যা করেছে।’ তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ভালো করেই জানে, এই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। মার্কিন ঘাঁটি থাকার কারণে তারা ইতোমধ্যেই যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা পূরণ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে এর জন্য কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। এই দুটি দেশই ইরানের সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে। কারণ, ইরানিদের কাছে এমন তথ্য ছিল যে এই দেশ দুটো থেকে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা হয়।