ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চে হামলা: দমন-পীড়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তির অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলাকে দেশের পুরোনো দমন-পীড়নমূলক আচরণেরই পুনরাবৃত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’। সংগঠনটি এই ঘটনার প্রতিবাদে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের নিকটবর্তী যমুনা এলাকায় শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচার দাবিতে অবস্থান নেওয়া তাঁর পরিবার এবং ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এক বর্বরোচিত, অমানবিক ও নিন্দনীয় হামলা চালিয়েছে। চবি সাদা দল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর একজন শহীদের পরিবারের সদস্যদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আগ্রাসী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটিকে পুরোনো ফ্যাসিবাদী আচরণেরই পুনরাবৃত্তি এবং ৫ আগস্টের বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে তারা মন্তব্য করেছে।

চবি সাদা দল জানিয়েছে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও তাঁর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই এবং শহীদের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে একজন সাহসী তরুণের হত্যার বিচার না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি অন্তর্বর্তী সরকারের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই বিচারহীনতা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে প্রশ্রয় দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে এবং সমাজে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

চবি সাদা দল অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো, পুলিশি তদন্তের অগ্রগতির বিস্তারিত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শহীদের পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বের একটি বৈঠক আয়োজন করা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই নির্বাচন সামনে রেখে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারহীনতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের ওপর পুলিশের এই নিপীড়ন অত্যন্ত সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে অপশক্তি এই নির্বাচনকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলেও সাদা দল সতর্ক করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুবাইয়ে আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় আগুন, হতাহত নেই

ইনকিলাব মঞ্চে হামলা: দমন-পীড়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলাকে দেশের পুরোনো দমন-পীড়নমূলক আচরণেরই পুনরাবৃত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’। সংগঠনটি এই ঘটনার প্রতিবাদে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের নিকটবর্তী যমুনা এলাকায় শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচার দাবিতে অবস্থান নেওয়া তাঁর পরিবার এবং ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এক বর্বরোচিত, অমানবিক ও নিন্দনীয় হামলা চালিয়েছে। চবি সাদা দল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর একজন শহীদের পরিবারের সদস্যদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আগ্রাসী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটিকে পুরোনো ফ্যাসিবাদী আচরণেরই পুনরাবৃত্তি এবং ৫ আগস্টের বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে তারা মন্তব্য করেছে।

চবি সাদা দল জানিয়েছে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও তাঁর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই এবং শহীদের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে একজন সাহসী তরুণের হত্যার বিচার না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি অন্তর্বর্তী সরকারের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই বিচারহীনতা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে প্রশ্রয় দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে এবং সমাজে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

চবি সাদা দল অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো, পুলিশি তদন্তের অগ্রগতির বিস্তারিত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শহীদের পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বের একটি বৈঠক আয়োজন করা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই নির্বাচন সামনে রেখে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারহীনতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের ওপর পুলিশের এই নিপীড়ন অত্যন্ত সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে অপশক্তি এই নির্বাচনকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলেও সাদা দল সতর্ক করেছে।