আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সমন্বয়ে মাঠে নেমেছে যৌথ টহল ও মহড়া কার্যক্রম। উপজেলার সকল ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা নাশকতার অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমনের প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এই নিরাপত্তা জোরদার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে যৌথবাহিনীর টহল পরিচালিত হয়। এর আগে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে যৌথ বাহিনীর মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর ফাহিমের নেতৃত্বে টহল দলটি সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে যাত্রা শুরু করে। পৌরসভা এলাকা ছাড়াও মুরাদপুর, সৈয়দপুর ও বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে তারা। টহলকালে বটতলা, মীরেরহাট, শেখেরহাট, মহানগর, বহরপুর, বড়দারোগাহাট, বারৈয়াঢালা, টেরিয়াল, পন্থিছিলা, ফকিরহাট ও বাংলাবাজার এলাকাসমূহ ঘুরে দেখা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই টহল শেষে যৌথবাহিনী তাদের ক্যাম্পে ফিরে যায়।
টহল কার্যক্রম প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ভোটাররা যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম, সহিংসতা বা নাশকতার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং নির্বাচনকালীন সময়জুড়ে যৌথ টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা ও মুরাদপুর ইউনিয়নসহ সীতাকুণ্ড পৌরসভার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ পেট্রোলিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় ভোটার ও সচেতন মহলের মতে, মাঠপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি ভোটের পরিবেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আস্থা তৈরি করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের এই কঠোর ও সমন্বিত অবস্থানের ফলে সীতাকুণ্ডে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























