বাগেরহাটের মোংলায় এক সাংবাদিক ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান কাগজপত্র এবং সাংবাদিকতার সরঞ্জাম লুট করেছে একদল সশস্ত্র ডাকাত। গত শুক্রবার গভীর রাতে সুন্দরবন ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। লুটের পর স্প্রে জাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে দম্পতিকে অচেতন করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক খান আশিকুজ্জামান জানান, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ৬-৭ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল তার টিনশেড বসতঘরের কাঠের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হেলমেট পরিহিত তিন ডাকাত পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র হাতে শোবার ঘরে ঢুকে পড়ে। এসময় তারা সাংবাদিক আশিকুজ্জামানের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র এবং তার স্ত্রীর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ডাকাতরা ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রব তছনছ করে নগদ ৪ হাজার টাকা, প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, একটি গ্রীন টেলিভিশনের মাইক বুম এবং একটি ভিভো ভি-২৯ মডেলের মোবাইল ফোন লুট করে নেয়। একপর্যায়ে ডাকাতরা তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, “আজকের পর সাংবাদিকতা করলে তোকে মেরে ফেলবো, তোর লাশও কেউ খুঁজে পাবে না।” এরপর তারা স্প্রে জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ সাংবাদিক ও তার স্ত্রীর চোখ ও মুখে প্রয়োগ করে তাদের অচেতন করে ফেলে। দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ডাকাত দল।
ঘটনার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আশিকুজ্জামানের বাবা খান আবুল কালাম নামাজ পড়তে উঠে ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো দেখতে পান। প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি সাংবাদিক দম্পতিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক খান আশিকুজ্জামান মোংলা থানায় অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মোংলা রামপাল সার্কেল এএসপি মো. রেফাতুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জড়িত ডাকাতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
রিপোর্টারের নাম 

























