ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

নাটোর-১ আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ: ১৭ জন আহত, ক্যাম্প ভাঙচুর, মামলা দায়ের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের লালপুর উপজেলায় স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপি প্রার্থীর একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ লালপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর (কলস প্রতীক) সমর্থকরা কচুয়া বাজার এলাকায় একটি নির্বাচনী মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের (ধানের শীষ প্রতীক) নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর পক্ষের ১০ জন আহত হয়ে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন— আড়বাব এলাকার এনামুল হক (৪৫), ফারুক (৩৭), সম্রাট (২৬), বড়বড়িয়া এলাকার শরিফুল ইসলাম (৩৩), শেরপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মনজুর রহমান পান্না (৫২), কচুয়া গ্রামের জামরুল ইসলাম বাবু (৩২), আব্দুল জলিলের ছেলে গিয়াস (৪০), মসলেমের ছেলে মিঠুন (৩০) ও লালন আলীর ছেলে শাহীন আলী (৩০)। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অপর তিন সমর্থক, যার মধ্যে পুলিশ কর্তৃক আটক খলিলও রয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। তারা হলেন— সাইপাড়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম (২৪) ও আড়বাব এলাকার জালাল উদ্দিন (৭৫)।

অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের পক্ষের আহত চারজনকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন— সাইপাড়া এলাকার শিহাব আলী (৩০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে শাহেদ আলী (২০), জহুরুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ (২৮) ও শুকচানের ছেলে আকমল (৩৫)।

সংঘর্ষের জেরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক সাইপাড়া গ্রামের টিক্কা খান বাদী হয়ে ২৭ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে, বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক কচুয়া গ্রামের আতাউর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন।

লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা: চড়া দামে আরও ৩ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

নাটোর-১ আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ: ১৭ জন আহত, ক্যাম্প ভাঙচুর, মামলা দায়ের

আপডেট সময় : ০৮:১২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের লালপুর উপজেলায় স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপি প্রার্থীর একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ লালপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর (কলস প্রতীক) সমর্থকরা কচুয়া বাজার এলাকায় একটি নির্বাচনী মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের (ধানের শীষ প্রতীক) নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর পক্ষের ১০ জন আহত হয়ে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন— আড়বাব এলাকার এনামুল হক (৪৫), ফারুক (৩৭), সম্রাট (২৬), বড়বড়িয়া এলাকার শরিফুল ইসলাম (৩৩), শেরপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মনজুর রহমান পান্না (৫২), কচুয়া গ্রামের জামরুল ইসলাম বাবু (৩২), আব্দুল জলিলের ছেলে গিয়াস (৪০), মসলেমের ছেলে মিঠুন (৩০) ও লালন আলীর ছেলে শাহীন আলী (৩০)। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অপর তিন সমর্থক, যার মধ্যে পুলিশ কর্তৃক আটক খলিলও রয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। তারা হলেন— সাইপাড়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম (২৪) ও আড়বাব এলাকার জালাল উদ্দিন (৭৫)।

অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের পক্ষের আহত চারজনকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন— সাইপাড়া এলাকার শিহাব আলী (৩০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে শাহেদ আলী (২০), জহুরুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ (২৮) ও শুকচানের ছেলে আকমল (৩৫)।

সংঘর্ষের জেরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক সাইপাড়া গ্রামের টিক্কা খান বাদী হয়ে ২৭ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে, বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক কচুয়া গ্রামের আতাউর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন।

লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।