কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি এবং বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তার দলের রাজনীতি শুধু কাঁচা কৃষিপণ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এতে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
শনিবার বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাজারও নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
তারেক রহমান দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য কাটারি ভোগ চাল এবং লিচুকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, দিনাজপুর শুধু দেশের খাদ্যভাণ্ডার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিশক্তির অন্যতম প্রতিনিধি হওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, দিনাজপুরে তার নানির বাড়ি এবং এই এলাকার মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। নানিবাড়ির মানুষদের কাছে ভোট চেয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখানকার মানুষ তাকে আপনজন মনে করে এবার বিজয়ী করবেন।
দিনাজপুরের কৃষিসম্পদের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং মানুষ পরিশ্রমী। কাটারি ভোগ চালের সুগন্ধ ও স্বাদ যেমন অতুলনীয়, তেমনি দিনাজপুরের লিচু দেশের অন্যতম সেরা ফল। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করা গেলে এসব পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে কৃষি ও কৃষক অবহেলার শিকার হয়েছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও কৃষক তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাননি। তিনি বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই বাস্তব সত্য ভুলে গিয়ে সরকার কৃষকদের বঞ্চিত করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে। এর ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি সহজ হবে। তিনি দিনাজপুরকে একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্প অঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের নিরাপত্তা ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করাই বিএনপির অঙ্গীকার বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষকে মরুকরণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হবে। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সবশেষে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি গণতান্ত্রিক, কৃষিবান্ধব ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 

























