আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী একটি দেশ গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী ওই দেশটি বাংলাদেশে কোনোভাবেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না, বরং তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ (রাওয়া) এবং ‘রাওয়া রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডি ফোরাম’ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা অত্যন্ত সুগভীর। দুই-একজনের চাঁদাবাজি বা অপকর্মের কারণে এই মহান বিপ্লব ব্যর্থ হতে পারে না। যারা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত হবে, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসতে হবে। এই আন্দোলনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিশাল ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের তথাকথিত এলিট শ্রেণি রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে।
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের মধ্যে কেন জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে না? আগামী নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট মার্কা বা দলীয় পরিচয় দেখে নয়, বরং সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে দেখে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে লে. কর্নেল (অব.) মোদাচ্ছের হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার নিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৈষম্য দূর হয়নি। দেশে বর্তমানে এমন কোনো নেতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে, যাকে সাধারণ মানুষ আইকন হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, দলগুলো আধিপত্যবাদ বিরোধী সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেবে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। দেশের মানুষ কেবল একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়।
সেমিনারে মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সরোয়ার বলেন, দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের টেলিভিশনে এসে জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান ও দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া উচিত। দেশের মানুষ আর কোনো ‘মাফিয়াতন্ত্র’ দেখতে চায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















