জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আয়োজিত ‘হিম উৎসব’-এর সমাপনী রাতে পালাগানের আসরে পবিত্র কোরআনের সুরা ‘আন-নাস’ নিয়ে বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছবি চত্বরে পালাগানের আসর চলছিল। এতে শিল্পী হিসেবে অংশ নেন এছহাক সরকার ও ছনিয়া সরকার। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নারী ও পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তর্কের সময় বাউল শিল্পী এছহাক সরকার পবিত্র কোরআনের সর্বশেষ সুরা ‘আন-নাস’-এর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সুরাটির খণ্ডিত ও বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে দর্শকদের বলেন, “পুরো সুরা জুড়েই নাচতে বলা হয়েছে; যত নাচবি, তত বাঁচবি।” এরপরই তিনি একটি গান শুরু করে উপস্থিত দর্শকদের নাচার আহ্বান জানান।
পবিত্র কোরআনের আয়াতের এমন অপব্যাখ্যা ও বিকৃত উপস্থাপনায় তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে দুই শিক্ষার্থী মঞ্চে উঠে শিল্পীর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তোলেন। এ সময় শিল্পী তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করলেও আয়োজকদের একটি অংশ প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ওই দুই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন। পরবর্তীতে রাত ২টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রক্টোরিয়াল বডির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে এবং যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুরা নাসের বিকৃত ব্যাখ্যা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার জেরে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের নৈতিক অবস্থান থেকেই এই প্রতিবাদ করেছেন। শিল্পী দুঃখ প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























