সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটলেও, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির মাটি এখনো প্রাণঘাতী মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্রের কবলে। ঘরে ফেরা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা, এই লুকানো শত্রুদের প্রধান শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটছে, যা যুদ্ধের ভয়াবহতাকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা এই বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে। একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন ভাই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ বছর বয়সী মোহাম্মদ এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে, আর তার দুই ছোট ভাই আব্দুল ও আজম চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সিরিয়ার শান্তি ও পুনর্গঠনের পথে এখনো কত বড় বাধা বিদ্যমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও প্রায় তিন লাখের বেশি ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র সক্রিয় রয়েছে। এই বিস্ফোরকগুলো কেবল মানুষের জীবনই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং বাস্তুচ্যুত লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাদের পৈতৃক ভিটেমাটিতে ফিরে আসার পথেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এই মারণাস্ত্রগুলো নিষ্ক্রিয় করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টা ছাড়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
রিপোর্টারের নাম 






















