ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

সাহিত্যকর্মই কি সাহিত্যিকের শ্রেষ্ঠ সার্টিফিকেট? মলাটের আড়ালে অন্য বাণিজ্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বইয়ের জগত এক বিস্ময়কর জগত। এর প্রতিটি উপাদানেরই নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে, আর এই গুরুত্বের এক অন্যতম অংশীদার হলো বইয়ের মলাট। একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় মলাট যেমন পাঠকের মনে প্রথম দেখায় এক গভীর ছাপ ফেলতে পারে, তেমনি সাহিত্যের জগতে মলাটের ভূমিকা কেবল বাহ্যিক আবরণ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি যেন বইয়ের ভেতরের জগতকে উন্মোচন করার এক প্রথম ইশারা, এক নীরব বিজ্ঞাপন।

প্রচ্ছদশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বইয়ের মলাট হয়ে ওঠে নান্দনিক ও মনোলোভা। অনেক ক্ষেত্রে, বইয়ের ভেতরের বিষয়বস্তুর চেয়েও মলাট পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। প্রচলিত প্রবাদ ‘আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী’ এখানে বেশ প্রযোজ্য। মলাট কেবল বইয়ের মোড়কই নয়, এটি যেন এক প্রচারপত্রও বটে, যা বইটির বিষয়বস্তু ও সাহিত্যিক মান সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা দেয়।

বাংলাদেশের সাহিত্যের বিকাশ যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, বইয়ের মলাটের উন্নতি নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। পাঠকের প্রাথমিক আকর্ষণ তৈরি হয় মলাটের প্রথম পৃষ্ঠার কারুকাজ দেখে, যাকে আমরা প্রচ্ছদ হিসেবে চিনি। কিন্তু এই মলাটের অন্য পিঠ, অর্থাৎ শেষ পাতাটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানেও শিল্পীর হাতের ছোঁয়া থাকতে পারে, অথবা এটি হতে পারে এক শূন্য প্রান্তর। অনেক সময় মলাটের শেষ পৃষ্ঠায় বইয়ের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কোনো বাণী, অথবা বইটির বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। কখনও কখনও লেখকের একটি পোর্ট্রেটও স্থান পায়, যা তার ব্যক্তিত্বের একটি ঝলক প্রকাশ করে।

তবে প্রায়শই শেষ মলাটটি লেখকের প্রশংসাপত্রে পরিণত হয়। এখানে এমন সব সার্টিফিকেট যুক্ত করা হয়, যা লেখকের শ্রেষ্ঠত্ব proclaims করে। স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেটের মতো এখানে শ্রেণিভেদ থাকে না, বরং সকল লেখকই যেন ‘প্রথম শ্রেণি’র মর্যাদা লাভ করেন। প্রশ্ন জাগে, এই প্রশংসাপত্রগুলো কারা লেখেন? কোনো বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, নামকরা সাহিত্যিক, প্রকাশক, নাকি স্বয়ং লেখক? এই বিষয়টি পাঠকের মনে এক চিরন্তন কৌতূহল জাগায়। যদি কোনো প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক সার্টিফিকেটটি লেখেন, তবে তা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু যদি তা না থাকে, তবে কি লেখক নিজেই নিজের প্রশংসা লেখেন, অথবা প্রকাশক এই দায়িত্ব পালন করেন?

বিশেষ করে, লেখকের নিজস্ব সৃষ্টি, অর্থাৎ পুরো বইটাই যখন তার কর্মের সাক্ষ্য বহন করে, তখন শেষ মলাটের এই প্রশংসাপত্রের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? এটি কি কেবল লেখক ও বইয়ের বাজারজাতকরণের একটি কৌশল? প্রশংসাপত্রের ভাষা প্রায়শই এমন হয় যেন লেখক নোবেল পুরস্কারের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। কিন্তু একজন লেখক কি করে নিজের সম্পর্কে এমন স্তুতিবাক্য লেখেন? এতে কি তিনি লজ্জিত হন না? নাকি এটি এক ধরনের আত্ম-তুষ্টি, যেখানে তিনি নিজেকে যা নন, তা হিসেবে উপস্থাপন করেন?

এই প্রবণতা কেবল নিজের বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় বিশিষ্টজনদের কাছ থেকেও এমন প্রশংসাপত্র আদায় করে মলাটে জুড়ে দেওয়া হয়। কলকাতার কোনো খ্যাতনামা সাহিত্যিক যদি এমন প্রশংসা লেখেন, তবে তা যেন এক অমূল্য প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একজন প্রিয় সাহিত্যিক, যিনি বিশ্বসাহিত্যিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, দেশে ফিরে এসে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, চলচ্চিত্র কাহিনি, চিত্রনাট্য—সবকিছুতেই হাত পাকিয়েছেন। এমনকি তিনি নিজের বই নিজেই প্রকাশ করে প্রকাশক ও বাজারজাতকারকও হয়েছিলেন। তার লেখা একটি নাটকের মঞ্চসফলতার পর, তিনি নাট্যগ্রন্থের উল্টো পিঠে নিজেকে উপমহাদেশের মহান সাহিত্যিক হিসেবে ঘোষণা করেন। এই ধরনের ‘ভূতুড়ে আবির্ভাব’ পাঠকের মনে লজ্জা জাগায়।

বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। অনেক সময় কোনো বিশিষ্টজনের কাছ থেকে সার্টিফিকেট আদায় করে তা মলাটে জুড়ে দেওয়া হয়। এই সার্টিফিকেট প্রদানকারীরাও পরে নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে বাংলাদেশি লেখক-সাহিত্যিকদের সার্টিফিকেট দিয়ে পুরস্কৃত করেন, যা প্রাপ্তদের জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

আরও দেখা যায়, কিছু কবি তাদের বাজার কাটতি পত্রিকায় কলাম লেখার সূত্রে ‘সার্টিফিকেট বিতরণী ইনস্টিটিউশন’ খুলে বসেন। এর উদ্দেশ্য হলো জুনিয়র লেখক-সাহিত্যিকদের কাছ থেকে আনুকূল্য আদায় এবং তাদের মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানো। এই প্রক্রিয়ায় অগণিত সার্টিফিকেট তরুণ প্রজন্মের হাতে চলে যায়।

অন্যদিকে, মফস্বলের কবিরা অনেক কষ্ট ও শ্রমের বিনিময়ে নিজেদের কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। তাদের বইয়ের শেষ মলাটেও প্রায়শই লেখক সম্পর্কে আবেগপূর্ণ উচ্ছ্বাস এবং কিছু সার্টিফিকেট স্থান পায়, যা সাধারণত নিজের লেখা অথবা ঢাকার কোনো পরিচিত লেখকের কাছ থেকে নেওয়া। তাদের গণ্ডি ঢাকা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে, যেমন ঢাকাইয়াদের গণ্ডি কলকাতা পর্যন্ত।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়, একজন সাহিত্যিকের জন্য তার মৌলিক সাহিত্যকর্মই কি শ্রেষ্ঠ সার্টিফিকেট হতে পারে না? মলাটের উল্টো পিঠে লেখা প্রশংসাপত্র বা সার্টিফিকেট কি সাহিত্যিকের প্রকৃত মূল্যায়নের মাপকাঠি হতে পারে? সাহিত্যকর্মের গভীরতা, মৌলিকত্ব এবং পাঠকের মনে তার প্রভাবই কি একজন সাহিত্যিকের দীর্ঘস্থায়ী পরিচিতি গড়ে তোলে না? এই প্রশ্নগুলো সাহিত্য জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্যকর্মই কি সাহিত্যিকের শ্রেষ্ঠ সার্টিফিকেট? মলাটের আড়ালে অন্য বাণিজ্য

আপডেট সময় : ০২:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বইয়ের জগত এক বিস্ময়কর জগত। এর প্রতিটি উপাদানেরই নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে, আর এই গুরুত্বের এক অন্যতম অংশীদার হলো বইয়ের মলাট। একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় মলাট যেমন পাঠকের মনে প্রথম দেখায় এক গভীর ছাপ ফেলতে পারে, তেমনি সাহিত্যের জগতে মলাটের ভূমিকা কেবল বাহ্যিক আবরণ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি যেন বইয়ের ভেতরের জগতকে উন্মোচন করার এক প্রথম ইশারা, এক নীরব বিজ্ঞাপন।

প্রচ্ছদশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বইয়ের মলাট হয়ে ওঠে নান্দনিক ও মনোলোভা। অনেক ক্ষেত্রে, বইয়ের ভেতরের বিষয়বস্তুর চেয়েও মলাট পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। প্রচলিত প্রবাদ ‘আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী’ এখানে বেশ প্রযোজ্য। মলাট কেবল বইয়ের মোড়কই নয়, এটি যেন এক প্রচারপত্রও বটে, যা বইটির বিষয়বস্তু ও সাহিত্যিক মান সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা দেয়।

বাংলাদেশের সাহিত্যের বিকাশ যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, বইয়ের মলাটের উন্নতি নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। পাঠকের প্রাথমিক আকর্ষণ তৈরি হয় মলাটের প্রথম পৃষ্ঠার কারুকাজ দেখে, যাকে আমরা প্রচ্ছদ হিসেবে চিনি। কিন্তু এই মলাটের অন্য পিঠ, অর্থাৎ শেষ পাতাটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানেও শিল্পীর হাতের ছোঁয়া থাকতে পারে, অথবা এটি হতে পারে এক শূন্য প্রান্তর। অনেক সময় মলাটের শেষ পৃষ্ঠায় বইয়ের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কোনো বাণী, অথবা বইটির বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। কখনও কখনও লেখকের একটি পোর্ট্রেটও স্থান পায়, যা তার ব্যক্তিত্বের একটি ঝলক প্রকাশ করে।

তবে প্রায়শই শেষ মলাটটি লেখকের প্রশংসাপত্রে পরিণত হয়। এখানে এমন সব সার্টিফিকেট যুক্ত করা হয়, যা লেখকের শ্রেষ্ঠত্ব proclaims করে। স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেটের মতো এখানে শ্রেণিভেদ থাকে না, বরং সকল লেখকই যেন ‘প্রথম শ্রেণি’র মর্যাদা লাভ করেন। প্রশ্ন জাগে, এই প্রশংসাপত্রগুলো কারা লেখেন? কোনো বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, নামকরা সাহিত্যিক, প্রকাশক, নাকি স্বয়ং লেখক? এই বিষয়টি পাঠকের মনে এক চিরন্তন কৌতূহল জাগায়। যদি কোনো প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক সার্টিফিকেটটি লেখেন, তবে তা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু যদি তা না থাকে, তবে কি লেখক নিজেই নিজের প্রশংসা লেখেন, অথবা প্রকাশক এই দায়িত্ব পালন করেন?

বিশেষ করে, লেখকের নিজস্ব সৃষ্টি, অর্থাৎ পুরো বইটাই যখন তার কর্মের সাক্ষ্য বহন করে, তখন শেষ মলাটের এই প্রশংসাপত্রের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? এটি কি কেবল লেখক ও বইয়ের বাজারজাতকরণের একটি কৌশল? প্রশংসাপত্রের ভাষা প্রায়শই এমন হয় যেন লেখক নোবেল পুরস্কারের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। কিন্তু একজন লেখক কি করে নিজের সম্পর্কে এমন স্তুতিবাক্য লেখেন? এতে কি তিনি লজ্জিত হন না? নাকি এটি এক ধরনের আত্ম-তুষ্টি, যেখানে তিনি নিজেকে যা নন, তা হিসেবে উপস্থাপন করেন?

এই প্রবণতা কেবল নিজের বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় বিশিষ্টজনদের কাছ থেকেও এমন প্রশংসাপত্র আদায় করে মলাটে জুড়ে দেওয়া হয়। কলকাতার কোনো খ্যাতনামা সাহিত্যিক যদি এমন প্রশংসা লেখেন, তবে তা যেন এক অমূল্য প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একজন প্রিয় সাহিত্যিক, যিনি বিশ্বসাহিত্যিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, দেশে ফিরে এসে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, চলচ্চিত্র কাহিনি, চিত্রনাট্য—সবকিছুতেই হাত পাকিয়েছেন। এমনকি তিনি নিজের বই নিজেই প্রকাশ করে প্রকাশক ও বাজারজাতকারকও হয়েছিলেন। তার লেখা একটি নাটকের মঞ্চসফলতার পর, তিনি নাট্যগ্রন্থের উল্টো পিঠে নিজেকে উপমহাদেশের মহান সাহিত্যিক হিসেবে ঘোষণা করেন। এই ধরনের ‘ভূতুড়ে আবির্ভাব’ পাঠকের মনে লজ্জা জাগায়।

বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। অনেক সময় কোনো বিশিষ্টজনের কাছ থেকে সার্টিফিকেট আদায় করে তা মলাটে জুড়ে দেওয়া হয়। এই সার্টিফিকেট প্রদানকারীরাও পরে নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে বাংলাদেশি লেখক-সাহিত্যিকদের সার্টিফিকেট দিয়ে পুরস্কৃত করেন, যা প্রাপ্তদের জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

আরও দেখা যায়, কিছু কবি তাদের বাজার কাটতি পত্রিকায় কলাম লেখার সূত্রে ‘সার্টিফিকেট বিতরণী ইনস্টিটিউশন’ খুলে বসেন। এর উদ্দেশ্য হলো জুনিয়র লেখক-সাহিত্যিকদের কাছ থেকে আনুকূল্য আদায় এবং তাদের মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানো। এই প্রক্রিয়ায় অগণিত সার্টিফিকেট তরুণ প্রজন্মের হাতে চলে যায়।

অন্যদিকে, মফস্বলের কবিরা অনেক কষ্ট ও শ্রমের বিনিময়ে নিজেদের কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। তাদের বইয়ের শেষ মলাটেও প্রায়শই লেখক সম্পর্কে আবেগপূর্ণ উচ্ছ্বাস এবং কিছু সার্টিফিকেট স্থান পায়, যা সাধারণত নিজের লেখা অথবা ঢাকার কোনো পরিচিত লেখকের কাছ থেকে নেওয়া। তাদের গণ্ডি ঢাকা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে, যেমন ঢাকাইয়াদের গণ্ডি কলকাতা পর্যন্ত।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়, একজন সাহিত্যিকের জন্য তার মৌলিক সাহিত্যকর্মই কি শ্রেষ্ঠ সার্টিফিকেট হতে পারে না? মলাটের উল্টো পিঠে লেখা প্রশংসাপত্র বা সার্টিফিকেট কি সাহিত্যিকের প্রকৃত মূল্যায়নের মাপকাঠি হতে পারে? সাহিত্যকর্মের গভীরতা, মৌলিকত্ব এবং পাঠকের মনে তার প্রভাবই কি একজন সাহিত্যিকের দীর্ঘস্থায়ী পরিচিতি গড়ে তোলে না? এই প্রশ্নগুলো সাহিত্য জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে।