ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পোস্টাল ব্যালট গণনা: কঠোর গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ ইসির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৭:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সারা দেশে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এই বিশেষ প্রক্রিয়ার গণনাস্থল নির্ধারণ করবেন। সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করে পোস্টাল ভোট গণনার সব বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে ইসি নির্দেশ দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন প্রতিটি সংসদীয় আসনে একজন করে মোট ৩০০ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে পোস্টাল ভোট গণনার জন্য। ভোট গণনার সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই পোস্টাল ভোটের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যা প্রক্রিয়াটির বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

ইসি পোস্টাল ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোটদাতার পরিচয়ের সঙ্গে তাঁর প্রদত্ত ভোট মিলিয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এই পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে কোনো ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা সংস্থার পক্ষে ভোটারের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হয়। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণনার শুরুতে প্রতিটি খাম থেকে অঙ্গীকারনামা (ঘোষণাপত্র) ও ব্যালট আলাদা করা হবে। যেসব অঙ্গীকারনামায় ভোটারের স্বাক্ষর পাওয়া যাবে, সেগুলো বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যালট গণনার জন্য সংরক্ষণ করা হবে।

এরপর বৈধ ব্যালটগুলো খোলা হবে। খামের ভেতরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য পৃথক রঙের ব্যালট থাকে। রঙ অনুযায়ী ব্যালটগুলো আলাদা করা হয়। এই পর্যায়ে অঙ্গীকারনামা, খাম ও ব্যালট সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পরবর্তীতে এগুলোকে আর একসঙ্গে মিলিয়ে দেখার বা কোনোভাবে সংযুক্ত করার প্রশ্নই ওঠে না। উদাহরণস্বরূপ, যদি ৫০টি ব্যালট যাচাই করা হয়, তবে পরে আর শনাক্ত করার কোনো উপায় থাকে না যে কোন ব্যালট কোন ভোটারের।

ভোট গণনার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী উপস্থিত থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়া পোলিং এজেন্টদের সামনে সম্পন্ন করা হবে। ইসির বিধি অনুযায়ী, কোথাও কোনো অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ব্যালট পৃথকভাবে গণনা করা হবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট প্রতীকভিত্তিক ১০০টি করে বান্ডেল করা হবে। সাধারণ ভোটের ফলাফলের সঙ্গে এই পোস্টাল ভোটের ফলাফল যুক্ত করে চূড়ান্ত ফল প্রস্তুত করা হবে।

ইসি জানিয়েছে, সাধারণ ব্যালট গণনার তুলনায় পোস্টাল ব্যালট গণনায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ, এখানে ঘোষণাপত্র যাচাইসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

পোস্টাল ব্যালট বক্সগুলো আগেই পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে সিলগালা করা হয়েছে। গণনার সময় বক্সগুলো পোলিং এজেন্টদের সামনেই খোলা হবে। প্রতিটি বক্সে ব্যবহৃত লক ও লক নম্বর আগেই নোটিস বোর্ডে টাঙানো হয়েছে, যাতে সবাই যাচাই করতে পারে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব এবং পোস্টাল ভোট সংক্রান্ত প্রকল্পের পরিচালক জানিয়েছেন, ভোট গণনার জন্য আলাদা কোনো বুথ থাকবে না। রিটার্নিং কর্মকর্তা গণনার স্থান নির্ধারণ করবেন এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পোলিং অফিসার ও সহায়ক কর্মকর্তারা গণনার কাজ সম্পন্ন করবেন। গণনার সময় প্রতিটি প্রার্থীর জন্য একজন করে অনুমোদিত পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন, তবে তাঁদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখা নিষিদ্ধ। বাইরের কোনো ব্যক্তির প্রবেশাধিকার থাকবে না।

উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের অভ্যন্তরের চার শ্রেণির নাগরিক মিলিয়ে ১৫ লাখেরও বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পোস্টাল ব্যালট গণনা: কঠোর গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ ইসির

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সারা দেশে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এই বিশেষ প্রক্রিয়ার গণনাস্থল নির্ধারণ করবেন। সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করে পোস্টাল ভোট গণনার সব বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে ইসি নির্দেশ দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন প্রতিটি সংসদীয় আসনে একজন করে মোট ৩০০ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে পোস্টাল ভোট গণনার জন্য। ভোট গণনার সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই পোস্টাল ভোটের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যা প্রক্রিয়াটির বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

ইসি পোস্টাল ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোটদাতার পরিচয়ের সঙ্গে তাঁর প্রদত্ত ভোট মিলিয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এই পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে কোনো ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা সংস্থার পক্ষে ভোটারের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হয়। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণনার শুরুতে প্রতিটি খাম থেকে অঙ্গীকারনামা (ঘোষণাপত্র) ও ব্যালট আলাদা করা হবে। যেসব অঙ্গীকারনামায় ভোটারের স্বাক্ষর পাওয়া যাবে, সেগুলো বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যালট গণনার জন্য সংরক্ষণ করা হবে।

এরপর বৈধ ব্যালটগুলো খোলা হবে। খামের ভেতরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য পৃথক রঙের ব্যালট থাকে। রঙ অনুযায়ী ব্যালটগুলো আলাদা করা হয়। এই পর্যায়ে অঙ্গীকারনামা, খাম ও ব্যালট সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পরবর্তীতে এগুলোকে আর একসঙ্গে মিলিয়ে দেখার বা কোনোভাবে সংযুক্ত করার প্রশ্নই ওঠে না। উদাহরণস্বরূপ, যদি ৫০টি ব্যালট যাচাই করা হয়, তবে পরে আর শনাক্ত করার কোনো উপায় থাকে না যে কোন ব্যালট কোন ভোটারের।

ভোট গণনার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী উপস্থিত থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়া পোলিং এজেন্টদের সামনে সম্পন্ন করা হবে। ইসির বিধি অনুযায়ী, কোথাও কোনো অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ব্যালট পৃথকভাবে গণনা করা হবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট প্রতীকভিত্তিক ১০০টি করে বান্ডেল করা হবে। সাধারণ ভোটের ফলাফলের সঙ্গে এই পোস্টাল ভোটের ফলাফল যুক্ত করে চূড়ান্ত ফল প্রস্তুত করা হবে।

ইসি জানিয়েছে, সাধারণ ব্যালট গণনার তুলনায় পোস্টাল ব্যালট গণনায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ, এখানে ঘোষণাপত্র যাচাইসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

পোস্টাল ব্যালট বক্সগুলো আগেই পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে সিলগালা করা হয়েছে। গণনার সময় বক্সগুলো পোলিং এজেন্টদের সামনেই খোলা হবে। প্রতিটি বক্সে ব্যবহৃত লক ও লক নম্বর আগেই নোটিস বোর্ডে টাঙানো হয়েছে, যাতে সবাই যাচাই করতে পারে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব এবং পোস্টাল ভোট সংক্রান্ত প্রকল্পের পরিচালক জানিয়েছেন, ভোট গণনার জন্য আলাদা কোনো বুথ থাকবে না। রিটার্নিং কর্মকর্তা গণনার স্থান নির্ধারণ করবেন এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পোলিং অফিসার ও সহায়ক কর্মকর্তারা গণনার কাজ সম্পন্ন করবেন। গণনার সময় প্রতিটি প্রার্থীর জন্য একজন করে অনুমোদিত পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন, তবে তাঁদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখা নিষিদ্ধ। বাইরের কোনো ব্যক্তির প্রবেশাধিকার থাকবে না।

উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের অভ্যন্তরের চার শ্রেণির নাগরিক মিলিয়ে ১৫ লাখেরও বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত হয়েছেন।