ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ছাত্রশিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট’: আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের উদ্ভাবনী মেধা অপরিহার্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী ভাবনা ও মেধাকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২১৩তম শহীদ শাহাবুদ্দিনের সম্মানিত পিতা মো. রফিকুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ। উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন ড. ওয়ারেসুল করিম। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. মিজানুর রহমান সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার (Critical Thinking) গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া মূল প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে বাছাইকৃত ২০০-এর অধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পোস্টার প্রেজেন্টেশন, পেপার প্রেজেন্টেশন, ভিডিও প্রেজেন্টেশন ও প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিয়ে তাদের চমৎকার সব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শেষে বিকেলে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়ের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ন্যানোম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং (এনসিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এবং নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর জেনারেল এডুকেশন বিভাগের লেকচারার ড. একরাম উদ্দিন।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, “এই আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক সুদূরপ্রসারী বুদ্ধিবৃত্তিক মহড়া। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণদের উদ্ভাবনী মেধার সাথে যদি সততা ও দেশপ্রেমের সমন্বয় ঘটানো যায়, তবে কোনো অপশক্তিই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবির এমন এক তরুণ প্রজন্ম গড়তে চায়, যারা শুধু ডিগ্রি অর্জন করবে না, বরং তাদের মেধা ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি সংকট নিরসনে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবে। আজকের এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলোই ভবিষ্যতে একটি ইনসাফপূর্ণ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একটি ইনসাফপূর্ণ ও আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; বরং তরুণদের গাণিতিক ও প্রযুক্তিগত মেধার প্রয়োগ ঘটিয়ে প্রতিটি জাতীয় সংকটের উদ্ভাবনী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও বলেন, অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে, নৈতিকতাহীন মেধা কেবল দুর্নীতিরই জন্ম দেয়। তাই আগামীর বাংলাদেশের মূল ভিত্তি হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি এবং সততা-দেশপ্রেমের এক অভিন্ন মেলবন্ধন। তরুণদের এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে যেন তারা শুধু বৈশ্বিক সমস্যার ভোক্তা না হয়ে সমাধানের কারিগর হতে পারে। অতিথিরা তরুণদের সৃজনশীল প্রজেক্টগুলোর প্রশংসা করে বলেন, এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের তরুণরা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সংস্কার আনতে সক্ষম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য এস এম ফরহাদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ছাত্রশিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট’: আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের উদ্ভাবনী মেধা অপরিহার্য

আপডেট সময় : ০৩:১৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী ভাবনা ও মেধাকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২১৩তম শহীদ শাহাবুদ্দিনের সম্মানিত পিতা মো. রফিকুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ। উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন ড. ওয়ারেসুল করিম। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. মিজানুর রহমান সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার (Critical Thinking) গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া মূল প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে বাছাইকৃত ২০০-এর অধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পোস্টার প্রেজেন্টেশন, পেপার প্রেজেন্টেশন, ভিডিও প্রেজেন্টেশন ও প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিয়ে তাদের চমৎকার সব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শেষে বিকেলে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়ের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ন্যানোম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং (এনসিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এবং নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর জেনারেল এডুকেশন বিভাগের লেকচারার ড. একরাম উদ্দিন।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, “এই আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক সুদূরপ্রসারী বুদ্ধিবৃত্তিক মহড়া। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণদের উদ্ভাবনী মেধার সাথে যদি সততা ও দেশপ্রেমের সমন্বয় ঘটানো যায়, তবে কোনো অপশক্তিই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবির এমন এক তরুণ প্রজন্ম গড়তে চায়, যারা শুধু ডিগ্রি অর্জন করবে না, বরং তাদের মেধা ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি সংকট নিরসনে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবে। আজকের এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলোই ভবিষ্যতে একটি ইনসাফপূর্ণ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একটি ইনসাফপূর্ণ ও আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; বরং তরুণদের গাণিতিক ও প্রযুক্তিগত মেধার প্রয়োগ ঘটিয়ে প্রতিটি জাতীয় সংকটের উদ্ভাবনী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও বলেন, অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে, নৈতিকতাহীন মেধা কেবল দুর্নীতিরই জন্ম দেয়। তাই আগামীর বাংলাদেশের মূল ভিত্তি হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি এবং সততা-দেশপ্রেমের এক অভিন্ন মেলবন্ধন। তরুণদের এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে যেন তারা শুধু বৈশ্বিক সমস্যার ভোক্তা না হয়ে সমাধানের কারিগর হতে পারে। অতিথিরা তরুণদের সৃজনশীল প্রজেক্টগুলোর প্রশংসা করে বলেন, এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের তরুণরা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সংস্কার আনতে সক্ষম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য এস এম ফরহাদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।