ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন মাত্র ৭ শতাংশ কারাবন্দি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের কারাবন্দিদের একটি ক্ষুদ্র অংশ – যা মোট বন্দির মাত্র ৭ শতাংশ। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৮৫ হাজার কারাবন্দি থাকলেও, এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের জন্য অনুমোদন পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ৯৬০ জন। কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৭১টি কারাগারের বন্দিরা পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। বাকি চারটি নতুন হওয়ায় সেখানে এখনো কোনো বন্দি নেই। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার ৩১৩ জন বন্দি নিবন্ধনের আবেদন করলেও, যাচাই-বাছাই ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে চূড়ান্ত অনুমোদন পান ৫ হাজার ৯৬০ জন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই অনুমোদিত বন্দিদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৪৭ জনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বাকি ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ জানান, পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হয়। বন্দির নিজ এলাকার প্রার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে। ৪৩ হাজার ধারণক্ষমতার বিপরীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্দি ছিল প্রায় ৪৮ হাজার। কিন্তু গত ১৭ মাসে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৮৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, গত বছরের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া বন্দিদের একটি বড় অংশ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

কারা কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে থাকা বন্দিদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার সাজাপ্রাপ্ত। এদের অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা এবং অনেকে আগ্রহ না দেখানোয় পোস্টাল ভোটের হার তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়াও, কোনো বন্দি পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধনের পর যদি জামিনে মুক্তি পান, তবে তিনি আর কারাগার থেকে ভোট দিতে পারেন না। একই কারণে বাইরে গিয়েও তার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না, যা সামগ্রিক ভোটদানের হারকে প্রভাবিত করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন মাত্র ৭ শতাংশ কারাবন্দি

আপডেট সময় : ১০:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের কারাবন্দিদের একটি ক্ষুদ্র অংশ – যা মোট বন্দির মাত্র ৭ শতাংশ। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৮৫ হাজার কারাবন্দি থাকলেও, এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের জন্য অনুমোদন পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ৯৬০ জন। কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৭১টি কারাগারের বন্দিরা পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। বাকি চারটি নতুন হওয়ায় সেখানে এখনো কোনো বন্দি নেই। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার ৩১৩ জন বন্দি নিবন্ধনের আবেদন করলেও, যাচাই-বাছাই ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে চূড়ান্ত অনুমোদন পান ৫ হাজার ৯৬০ জন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই অনুমোদিত বন্দিদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৪৭ জনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বাকি ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ জানান, পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হয়। বন্দির নিজ এলাকার প্রার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে। ৪৩ হাজার ধারণক্ষমতার বিপরীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্দি ছিল প্রায় ৪৮ হাজার। কিন্তু গত ১৭ মাসে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৮৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, গত বছরের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া বন্দিদের একটি বড় অংশ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

কারা কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে থাকা বন্দিদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার সাজাপ্রাপ্ত। এদের অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা এবং অনেকে আগ্রহ না দেখানোয় পোস্টাল ভোটের হার তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়াও, কোনো বন্দি পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধনের পর যদি জামিনে মুক্তি পান, তবে তিনি আর কারাগার থেকে ভোট দিতে পারেন না। একই কারণে বাইরে গিয়েও তার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না, যা সামগ্রিক ভোটদানের হারকে প্রভাবিত করে।