আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এখন কেবল ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার অপেক্ষা। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কাজ এগোচ্ছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১৬টিতে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ হবে। ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশনায় শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার কারণে কিছু আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এই বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ব্যালট পাঠাতে কিছুটা দেরি হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।
নির্বাচনের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবার বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনারের ভাষ্যমতে, এত বিশাল পরিসরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এর আগে কখনো মোতায়েন করা হয়নি। নিরাপত্তার ছক অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। পাশাপাশি আট দিন দায়িত্ব পালন করবে আনসার বাহিনী। পুলিশ বাহিনী ইতোমধ্যে দেশজুড়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে এবং সেনাবাহিনীর আংশিক মোতায়েনও সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচনী মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আচরণবিধি নিশ্চিত করতে ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন। একই সময়ে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরাও তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোটের হার এবং জনঅংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হতে পারে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, গড়ে ৫৫ শতাংশ বা এর কাছাকাছি ভোট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ স্থিতিশীল রয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়নি বলে কমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















