বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতি পুনরায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে।
শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। এই বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে অর্জিত হয়েছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আসলাম চৌধুরী বলেন, একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেন। তারই ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালে তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে।
২০০৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে গণতন্ত্র আবারও বিপর্যস্ত হয় এবং দেশ দীর্ঘ একদলীয় শাসনের কবলে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ১৭ বছরে তিনি নিজে কারাবরণ করেছেন এবং তাঁর সহ অসংখ্য নেতা-কর্মী কারাবন্দী ছিলেন। কারাগারের ভেতর থেকেও তাঁরা সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করেছেন।
অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী বলেন, একটি সন্তান কারাগারে গেলে একজন মায়ের যে যন্ত্রণা হয়, হাজার হাজার মানুষ বন্দি হলে সেই কষ্ট পুরো জাতির ওপর নেমে আসে। তিনিও সেই নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর একজন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ আবারও কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। এই আন্দোলনের ফলেই তিনি ২০ আগস্ট কারামুক্তি লাভ করেন। সেই দিন টানা বৃষ্টির মধ্যেও প্রায় ৬০ কিলোমিটার মহাসড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা তাঁকে নতুন করে সাহস, শক্তি ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত করেছে।
নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থলে ‘ধানের শীষ’ প্রতীককে উন্নয়নের মার্কা হিসেবে উল্লেখ করে নানা স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 






















