ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুর-৪ আসনে নির্বাচনী সহিংসতা: বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সহিংসতা ও অভিযোগের পাল্টাপাল্টি ঘটনা ঘটেছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে উভয়েই পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন যে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানের (চিংড়ি প্রতীক) অনুসারীরা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালালেও একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরিতে তৎপর রয়েছে। এই সময় চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনি প্রধান সমন্বয়ক শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিএনপি প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদের জনপ্রিয়তা ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু ব্যক্তি অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, একইদিন সন্ধ্যায় বিএনপি থেকে বহিস্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নানও একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে তার ও তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তার ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা প্রকারান্তরে এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন। এমএ হান্নান সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার অন্যতম সমন্বয়কারী ও সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেন।

ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনগুলোতে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পৃথক স্থানে সংঘটিত এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এই ঘটনাগুলো নির্বাচনী উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংসদ অধিবেশন: অতিথিদের প্রবেশ ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় ডিএমপির নির্দেশনা

চাঁদপুর-৪ আসনে নির্বাচনী সহিংসতা: বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:১৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সহিংসতা ও অভিযোগের পাল্টাপাল্টি ঘটনা ঘটেছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে উভয়েই পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন যে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানের (চিংড়ি প্রতীক) অনুসারীরা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালালেও একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরিতে তৎপর রয়েছে। এই সময় চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনি প্রধান সমন্বয়ক শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিএনপি প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদের জনপ্রিয়তা ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু ব্যক্তি অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, একইদিন সন্ধ্যায় বিএনপি থেকে বহিস্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নানও একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে তার ও তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তার ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা প্রকারান্তরে এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন। এমএ হান্নান সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার অন্যতম সমন্বয়কারী ও সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেন।

ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনগুলোতে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পৃথক স্থানে সংঘটিত এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এই ঘটনাগুলো নির্বাচনী উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।