ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

পক্ষপাতের অভিযোগ: ফেনীর সেই এসিল্যান্ডকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ফেনী সদর উপজেলার বিতর্কিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনকে নির্বাচনি সকল কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ফেনী-২ আসনের এক প্রার্থীর টানা ৩১ ঘণ্টার অনশন ও আন্দোলনের মুখে জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিনকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত আসার পর অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ‘জনতার অধিকার’ পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন তারিকুল ইসলাম। তার এই অবস্থানের কারণে কার্যালয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পায়ে হেঁটে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোমেন শর্মা ঘটনাস্থলে গিয়ে দাবি মানার আশ্বাস দিলে তিনি ফটক ছেড়ে একপাশে অবস্থান নেন। দীর্ঘ ৩১ ঘণ্টা পর দাবি পূরণ হওয়ায় তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।

অনশন চলাকালীন তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ফেনী-২ আসনে নির্বাচনি আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন তাকে সরাসরি হুমকি ও ধমকি দিয়েছেন। এছাড়া নির্দিষ্ট প্রার্থীর বিলবোর্ড ও রঙিন প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহারের জন্য তিনি প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। গত সোমবার ফেনী-২ আসনের আরেক প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনি প্রচারের জন্য ব্যবহৃত একটি ক্যারাভ্যান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটক করেন এসিল্যান্ড এবং কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ওই ঘটনায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আপিল করলে ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রার্থীর অনশন এবং একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে অবশেষে প্রশাসন এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে নির্বাচনি মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংসদ অধিবেশন: অতিথিদের প্রবেশ ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় ডিএমপির নির্দেশনা

পক্ষপাতের অভিযোগ: ফেনীর সেই এসিল্যান্ডকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফেনী সদর উপজেলার বিতর্কিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনকে নির্বাচনি সকল কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ফেনী-২ আসনের এক প্রার্থীর টানা ৩১ ঘণ্টার অনশন ও আন্দোলনের মুখে জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিনকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত আসার পর অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ‘জনতার অধিকার’ পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন তারিকুল ইসলাম। তার এই অবস্থানের কারণে কার্যালয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পায়ে হেঁটে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোমেন শর্মা ঘটনাস্থলে গিয়ে দাবি মানার আশ্বাস দিলে তিনি ফটক ছেড়ে একপাশে অবস্থান নেন। দীর্ঘ ৩১ ঘণ্টা পর দাবি পূরণ হওয়ায় তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।

অনশন চলাকালীন তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ফেনী-২ আসনে নির্বাচনি আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন তাকে সরাসরি হুমকি ও ধমকি দিয়েছেন। এছাড়া নির্দিষ্ট প্রার্থীর বিলবোর্ড ও রঙিন প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহারের জন্য তিনি প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। গত সোমবার ফেনী-২ আসনের আরেক প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনি প্রচারের জন্য ব্যবহৃত একটি ক্যারাভ্যান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটক করেন এসিল্যান্ড এবং কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ওই ঘটনায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আপিল করলে ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রার্থীর অনশন এবং একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে অবশেষে প্রশাসন এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে নির্বাচনি মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।