ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

১০ টাকার চালের মতো ‘ফ্যামিলি কার্ড’ও ধাপ্পাবাজি: জামায়াত আমির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন গতানুগতিক কোনো নির্বাচন নয়, বরং এটি দেশবাসীর সম্মান, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের নির্বাচন। শুক্রবার পিরোজপুর সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একসময় ১০ টাকায় চাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, এখন বলা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা। এই ফ্যামিলি কার্ডও ১০ টাকার চাল দেওয়ার মতোই একটি ধাপ্পাবাজি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, যেসব নারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইছেন, তাদের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, “হাদি, আবু সাঈদ, মুগ্ধরা এই দেশে বৈষম্য দূর করার কথা উচ্চারণ করেছিল, আর সে কারণেই তাদের হত্যা করা হয়েছে।” তিনি উপস্থিত জনতাকে এই হত্যার বদলা নিতে দুটি ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান—একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট, যা স্বাধীনতার প্রতীক, এবং অন্যটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ভোট। তিনি বলেন, “আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো গোলাম হতে চাই না।”

ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েম করে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচারকারীদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করে দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা ভোট চুরির চেষ্টা করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং ভোট সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বেকার ভাতা প্রদানের পরিবর্তে যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। আমরা বেকার যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেবো, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।” তিনি আরও জানান যে, কোনো প্রকার জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ বৈষম্য থাকবে না এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে কাজ দেওয়া হবে, যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মর্যাদা বেশি হবে।

নিরপরাধ শহীদ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নিরপরাধ শহীদ মাওলানা সাঈদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, কারণ তিনি কোরআনের বাণী প্রচার করতেন।” তিনি সাঈদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে জনগণের ভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।

নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজদের কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইনসাফের সরকারের সুযোগ পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শাসক নয়, জনগণের সেবক হয়ে দেশ পরিচালনা করবো। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ১৩ ফেব্রুয়ারি ইনসাফের বাংলাদেশের নতুন সূর্যোদয় হবে এবং দেশ কোনো একক দলের নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের।

জনসভায় পিরোজপুরের তিনটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চান ডা. শফিকুর রহমান। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নারী-পুরুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে জড়ো হন এবং দুপুরেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। “ন্যায়ের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন”—এই স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংসদ অধিবেশন: অতিথিদের প্রবেশ ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় ডিএমপির নির্দেশনা

১০ টাকার চালের মতো ‘ফ্যামিলি কার্ড’ও ধাপ্পাবাজি: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০৭:১৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন গতানুগতিক কোনো নির্বাচন নয়, বরং এটি দেশবাসীর সম্মান, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের নির্বাচন। শুক্রবার পিরোজপুর সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একসময় ১০ টাকায় চাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, এখন বলা হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা। এই ফ্যামিলি কার্ডও ১০ টাকার চাল দেওয়ার মতোই একটি ধাপ্পাবাজি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, যেসব নারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইছেন, তাদের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, “হাদি, আবু সাঈদ, মুগ্ধরা এই দেশে বৈষম্য দূর করার কথা উচ্চারণ করেছিল, আর সে কারণেই তাদের হত্যা করা হয়েছে।” তিনি উপস্থিত জনতাকে এই হত্যার বদলা নিতে দুটি ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান—একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট, যা স্বাধীনতার প্রতীক, এবং অন্যটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ভোট। তিনি বলেন, “আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো গোলাম হতে চাই না।”

ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েম করে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচারকারীদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করে দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা ভোট চুরির চেষ্টা করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং ভোট সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বেকার ভাতা প্রদানের পরিবর্তে যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। আমরা বেকার যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেবো, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।” তিনি আরও জানান যে, কোনো প্রকার জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ বৈষম্য থাকবে না এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে কাজ দেওয়া হবে, যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মর্যাদা বেশি হবে।

নিরপরাধ শহীদ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নিরপরাধ শহীদ মাওলানা সাঈদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, কারণ তিনি কোরআনের বাণী প্রচার করতেন।” তিনি সাঈদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে জনগণের ভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।

নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজদের কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইনসাফের সরকারের সুযোগ পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শাসক নয়, জনগণের সেবক হয়ে দেশ পরিচালনা করবো। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ১৩ ফেব্রুয়ারি ইনসাফের বাংলাদেশের নতুন সূর্যোদয় হবে এবং দেশ কোনো একক দলের নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের।

জনসভায় পিরোজপুরের তিনটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চান ডা. শফিকুর রহমান। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নারী-পুরুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে জড়ো হন এবং দুপুরেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। “ন্যায়ের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন”—এই স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত ছিল।