জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে যদি কেউ ভোট চুরি বা জালিয়াতির চেষ্টা করে, তবে তাদের পরিণতিও গত হওয়া ফ্যাসিস্ট শক্তির মতোই হবে। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং ঋণ খেলাপি ও নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে জনগণের চূড়ান্ত রায়ের নির্বাচন।
শুক্রবার বিকেলে সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগস্থ মাতৃবাগান মসজিদ সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুলের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গঠন এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা রাজপথে লড়াই করছেন। দেশের মানুষ এখন প্রচলিত রাজনীতির বাইরে নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দিতে চায়। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ পক্ষ নারী ভোটার ও কর্মীদের প্রচারে বাধা দিচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এই ভয়ের সংস্কৃতি থেকেই শেরপুরে তাদের এক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “যারা হত্যার রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের রুখে দেওয়ার সময় এসেছে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের এখনো আইনের আওতায় আনতে না পারা সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা। হাদির পরিবার এখনো বিচারের আশায় রাজপথে রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও হাদির আদর্শকে ধারণ করেই দেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রায় দেবে।
জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। দিল্লির তাঁবেদারি এ দেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না।” দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে অবস্থান করা জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ‘গোপন পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে আর কোনো দুর্নীতিবাজ বা প্রতারক চক্রকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনশক্তির সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থী দিলশানা পারুল সম্পর্কে তিনি বলেন, জনসেবার মহান ব্রত নিয়ে তিনি প্রবাস জীবনের মোহ ত্যাগ করে দেশে ফিরেছেন। তাকে জয়যুক্ত করার মাধ্যমে সাভারের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
এনসিপি সাভার উপজেলার আহ্বায়ক জুলকারনাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল। সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম এবং জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি হাসান মাহবুব মাস্টারসহ জোটের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বক্তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 





















