ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ফরিদগঞ্জে ধানের শীষ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২০

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার খাজুরিয়া এলাকায় সংঘটিত এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে দুইজনকে আটক করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ৬ নম্বর গুপ্টি ইউনিয়নের হোগলি গ্রামে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও বর্তমানে বিদ্রোহী প্রার্থী এমএ হান্নানের (চিংড়ি প্রতীক) সমর্থকদের একটি উঠান বৈঠক চলছিল। ওই সময় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা একটি মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে প্রথম দফায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পরবর্তীতে খাজুরিয়া বাজারে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পুনরায় কথা কাটাকাটি ও বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেন্টু কুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ইউএনও জানান, নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ঘটনাস্থল থেকে আবুল কাশেম (৩৬) ও আল আমিন (২৬) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ২০ জনের মধ্যে ধানের শীষের সমর্থক রাজু পাটোয়ারী, কবির হোসেন, রাহুল দাস, মারুফ হোসেন, শাহ মুন্না এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক ফারুক হোসেন, জিশান, রাজু আহমেদ, নাহিদ ও মেহেদীসহ আরও অনেকের নাম জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকে পুরো উপজেলা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, একজনের মৃত্যু; ৮৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফরিদগঞ্জে ধানের শীষ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট সময় : ১১:২৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার খাজুরিয়া এলাকায় সংঘটিত এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে দুইজনকে আটক করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ৬ নম্বর গুপ্টি ইউনিয়নের হোগলি গ্রামে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও বর্তমানে বিদ্রোহী প্রার্থী এমএ হান্নানের (চিংড়ি প্রতীক) সমর্থকদের একটি উঠান বৈঠক চলছিল। ওই সময় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা একটি মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে প্রথম দফায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পরবর্তীতে খাজুরিয়া বাজারে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পুনরায় কথা কাটাকাটি ও বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেন্টু কুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ইউএনও জানান, নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ঘটনাস্থল থেকে আবুল কাশেম (৩৬) ও আল আমিন (২৬) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ২০ জনের মধ্যে ধানের শীষের সমর্থক রাজু পাটোয়ারী, কবির হোসেন, রাহুল দাস, মারুফ হোসেন, শাহ মুন্না এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক ফারুক হোসেন, জিশান, রাজু আহমেদ, নাহিদ ও মেহেদীসহ আরও অনেকের নাম জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকে পুরো উপজেলা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।