আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। প্রার্থীরা দিনরাত ভোটারদের মন জয় করতে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। আটজন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও, স্থানীয় ভোটারদের মতে মূল লড়াইটি হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। উভয় দলই এবার আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংকে নজর দিয়েছে, যা এই আসনের জয়-পরাজয়ের অন্যতম নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। তবে এর মধ্যেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মনোনয়নবঞ্চিতদের নিষ্ক্রিয়তা বিএনপি প্রার্থীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে বরিশাল-২ আসনের নির্বাচনী উত্তাপ। প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, দিচ্ছেন নানা আশ্বাস ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। প্রচারণার এই ঢেউয়ে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে ভোটের মাঠের চিত্র। তবে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, তারা কথার ফুলঝুরিতে নয়, বরং সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধিকেই বেছে নিতে চান।
এই সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী এস সরফুদ্দীন আহমেদ সান্টু। তবে তার মনোনয়ন ঘিরে দলের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আনোয়ার হোসেন এবং কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন আক্তার সেন্টুসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা এই আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা বঞ্চিত হন। এতে ক্ষুব্ধ এসব নেতা ও তাদের অনুসারীরা ধানের শীষের প্রার্থী সান্টুর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন না। বর্তমানে কেবল সান্টু ও তার ঘনিষ্ঠ সমর্থকরাই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা পর্যায়েও বিএনপির মধ্যে রয়েছে তীব্র বিভেদ। বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় কোন্দল প্রকট। যদিও বেশিরভাগ নেতাকর্মী সান্টুর পক্ষে রয়েছেন, তবে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অনেকটাই কোণঠাসা এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে তাদের দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেক নেতাকর্মী দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, আবার কেউ কেউ ক্ষোভে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। এই দলবদল বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করেছে। সম্প্রতি বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টারসহ ছয়জন প্রভাবশালী নেতা এবং তাদের দুই শতাধিক কর্মী-সমর্থক জামায়াতে যোগ দেওয়ায় তা স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















