আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে এক তীব্র ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের মতে, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শহীদ মো. ইকবাল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী এনামুল হকের মধ্যে। অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী সাবেক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নেতা রশীদ আহমাদ ভোটের দৌড়ে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে বিএনপি শহীদ ইকবাল হোসেনকেই এই আসনের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে জোটগতভাবে আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সময়সীমার মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয় শহীদ ইকবালকে। তা সত্ত্বেও মণিরামপুরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বিশাল অংশ তার পক্ষেই নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া, দুর্বাডাঙ্গা ও খেদাপাড়া ইউনিয়নের হাতেগোনা কিছু বিএনপি নেতাকর্মী জোটের প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, বাকি ইউনিয়নগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের সিংহভাগই শহীদ ইকবাল হোসেনের সমর্থনে মাঠে নেমেছেন।
প্রায় পৌনে চার লাখ ভোটারের এই আসনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পূজা উদযাপন পরিষদ, মতুয়া সংগঠনসহ সাধারণ হিন্দু ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকাশ্যে শহীদ ইকবালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি মণিরামপুর পৌরসভার তিনবারের মেয়র থাকাকালীনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ব্যাপক ভোট পেয়েছিলেন। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের কাছেও তিনি তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য।
মণিরামপুর বাজারের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে শহীদ ইকবালকে সহজে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তার রাজনৈতিক প্রভাব এখনো এলাকায় স্পষ্ট।
অন্যদিকে, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন যে, সংগঠন ও জনসমর্থনহীন একটি দলকে আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। তাদের আশঙ্কা, যদি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক তৃতীয় অবস্থানে চলে যায়, তবে তা রাজনৈতিকভাবে একটি নেতিবাচক বার্তা দেবে। তারা আরও জানান, বর্তমান সরকারের আমলে মণিরামপুরে বিএনপির অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বহু নেতাকর্মী মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন অথবা কারাবরণ করেছেন। এর বিপরীতে, জমিয়ত নেতা রশীদ আহমাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি নেই এবং তিনি কখনো কারাবরণ বা নির্যাতনের শিকার হননি। এ কারণে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে প্রচারে নামতে অনাগ্রহী।
স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারণায় শহীদ ইকবালের পক্ষে চোখে পড়ার মতো জনসমাগম দেখা যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীর প্রচারে লোকসমাগম কম।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা নিয়মিতভাবে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সাংগঠনিক তৎপরতা অন্য দুই প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শহীদ মো. ইকবাল হোসেন বলেন, তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী এবং কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনি মাঠ ছাড়ার প্রশ্ন নেই। জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুলের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আহসান হাবিব লিটন বলেন, “আমরা বিজয়ের পথেই রয়েছি। বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থীই আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।”
রিপোর্টারের নাম 





















