ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

সিরিয়ায় সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দ্বিতীয়বারের মতো ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। সিরিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক শনিবার আল-শারার এই সম্ভাব্য সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাহরাইনে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি বিষয়ক বার্ষিক সম্মেলন ‘মানামা ডায়ালগ’-এর এক ফাঁকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মার্কিন এই বিশেষ রাষ্ট্রদূত এ কথা জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট আল-শারার ওয়াশিংটন সফরের সময় সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী জোটে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। এর আগে, তিনি গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আল-শারা একাধিকবার বিদেশ সফর করেছেন।

দেশটির সশস্ত্র একটি গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত আল-শারার নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, আসাদের শাসনামলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাধর দেশের সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক নতুন করে স্থাপনের চেষ্টা করছে।

২০১৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠন করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন এই জোটে সিরিয়া সদস্য নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আল-শারার এই সফরে সিরিয়া ওই জোটে যোগ দিতে পারে।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সিরিয়া ও ইরাকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা দখল করে ইসলামিক স্টেট সেখানে নিজেদের ইসলামি আমিরাত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিল। ওই সময় ভয়াবহ নৃশংসতার জন্য এই জঙ্গিগোষ্ঠীটি কুখ্যাতি অর্জন করে।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট এবং স্থানীয় মিত্র গোষ্ঠীগুলো ২০১৯ সালে ওই জঙ্গিগোষ্ঠীকে তাদের শেষ ঘাঁটি থেকেও বিতাড়িত করে। তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে গত জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আসাদ সরকারের পতনের সুযোগ নিয়ে আইএস আবারও সিরিয়া এবং প্রতিবেশী দেশ ইরাকে পুনরুত্থানের চেষ্টা করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে রইল ভারত

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন

আপডেট সময় : ১১:০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

সিরিয়ায় সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দ্বিতীয়বারের মতো ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। সিরিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক শনিবার আল-শারার এই সম্ভাব্য সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাহরাইনে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি বিষয়ক বার্ষিক সম্মেলন ‘মানামা ডায়ালগ’-এর এক ফাঁকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মার্কিন এই বিশেষ রাষ্ট্রদূত এ কথা জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট আল-শারার ওয়াশিংটন সফরের সময় সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী জোটে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। এর আগে, তিনি গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আল-শারা একাধিকবার বিদেশ সফর করেছেন।

দেশটির সশস্ত্র একটি গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত আল-শারার নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, আসাদের শাসনামলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাধর দেশের সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক নতুন করে স্থাপনের চেষ্টা করছে।

২০১৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠন করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন এই জোটে সিরিয়া সদস্য নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আল-শারার এই সফরে সিরিয়া ওই জোটে যোগ দিতে পারে।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সিরিয়া ও ইরাকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা দখল করে ইসলামিক স্টেট সেখানে নিজেদের ইসলামি আমিরাত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিল। ওই সময় ভয়াবহ নৃশংসতার জন্য এই জঙ্গিগোষ্ঠীটি কুখ্যাতি অর্জন করে।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট এবং স্থানীয় মিত্র গোষ্ঠীগুলো ২০১৯ সালে ওই জঙ্গিগোষ্ঠীকে তাদের শেষ ঘাঁটি থেকেও বিতাড়িত করে। তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে গত জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আসাদ সরকারের পতনের সুযোগ নিয়ে আইএস আবারও সিরিয়া এবং প্রতিবেশী দেশ ইরাকে পুনরুত্থানের চেষ্টা করছে।