সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী একটি যৌথ মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। এই মহড়াটি মিয়ানমার, ভুটান ও বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে বিস্তৃতভাবে পরিচালিত হবে, যেখানে সেনা ও বিমানবাহিনী একযোগে অংশ নেবে। এই মহড়ায় রাফাল এবং সুখোই-এর মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান ওড়ানো হবে। সেই সাথে সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ট্যাংকগুলোও মোতায়েন করা হবে।
এই মহড়াটি মোট তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ চলবে ৬ ও ২০ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ৪ ও ১৮ ডিসেম্বর এবং শেষ ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ১ ও ১৫ জানুয়ারি। এই নির্দিষ্ট সময়গুলোতে সীমান্তবর্তী আকাশপথে সাধারণ বিমান চলাচলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ থাকবে।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, মহড়াটি আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হবে। এখানে যৌথ তত্ত্বাবধানে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, নজরদারি ড্রোন এবং আধুনিক রাডার ব্যবহার করা হবে। এই মহড়ার প্রধান লক্ষ্য হলো—সীমান্তে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি কেমন তা পরীক্ষা করা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা বাড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার দক্ষতা যাচাই করে নেওয়া।
সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “যদিও এই মহড়াটি নিয়মিত প্রশিক্ষণেরই একটি অংশ, তবুও বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সীমান্তের অস্থিরতার কারণে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। উত্তর-পূর্ব সীমান্তে আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এখন আগের চেয়েও বেশি গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর।”
সম্প্রতি ভারত-চীন সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে, মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিরতা এবং বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। ঠিক এমন একটি প্রেক্ষাপটেই ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী এই নতুন সতর্কতা জারি করলো। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু একটি সামরিক মহড়া নয়, বরং এটি একটি কূটনৈতিক বার্তাও—যে ভারত পূর্ব সীমান্তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে দিচ্ছে।
‘নোটাম’ হলো একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিমান সতর্কবার্তা। নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে নির্দিষ্ট সময়ে যদি সামরিক মহড়া, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা বিমান চলাচলে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে পাইলট এবং বিমান সংস্থাগুলোকে আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য হলো বেসামরিক বিমান চলাচল এবং সামরিক কার্যক্রম—উভয়ের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা।
সূত্র জানিয়েছে, এই মহড়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব বিমানঘাঁটি এবং সীমান্তরক্ষী স্কোয়াড্রন অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















