ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান হত্যার অভিযোগে সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নাইজেরিয়ার সরকার যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশটিকে দেওয়া মার্কিন সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে এবং একইসাথে সেখানে দ্রুত ও “নির্মম” হামলা চালানো হতে পারে। রবিবার (২ নভেম্বর) আল-জাজিরা এবং আনাদোলু এজেন্সি (এএ) তাদের প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে।

ওই সংবাদমাধ্যম দুটি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই হুমকির ঠিক একদিন আগেই, এই মার্কিন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন যে নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে এবং উগ্র ইসলামপন্থীদের হামলায় সেখানে হাজার হাজার খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেখেন, নাইজেরিয়ার সরকার যদি খ্রিস্টানদের হত্যা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে দেওয়া সব ধরনের সাহায্য সাথে সাথেই বন্ধ করে দেবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা খুব সম্ভবত ওই লজ্জিত দেশে প্রবেশ করবো—‘বন্দুক গর্জে উঠবে’, যাতে ইসলামি সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা যায়, যারা এসব ভয়াবহ নৃশংসতা চালাচ্ছে।”

তবে তিনি ঠিক কোন গোষ্ঠী বা কোন ঘটনাকে “নৃশংসতা” বলছেন, তা পরিষ্কার করে উল্লেখ করেননি।

ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি আমাদের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ারকে সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিচ্ছি। যদি আমরা হামলা চালাই, তা হবে দ্রুত, নির্মম এবং মধুর— যেমনভাবে ওই সন্ত্রাসীরা আমাদের প্রিয় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। সতর্কবার্তা: নাইজেরিয়ার সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিক!”

ট্রাম্পের এই হুমকির বিষয়ে নাইজেরিয়ার সরকার অবশ্য এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এর মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, আফ্রিকার শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী এবং সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে যাচ্ছে।

আসলে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু ডানপন্থি রাজনীতিক এবং প্রভাবশালী মহল এই দাবি করে আসছে যে, নাইজেরিয়ার সহিংসতার ঘটনাগুলো মূলত “খ্রিস্টান গণহত্যার” একটি অংশ।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। তারা বলছে, নাইজেরিয়ায় বহু বছর ধরে যে সহিংসতা চলছে তা আসলে দীর্ঘদিনের জটিল এক নিরাপত্তা সমস্যার ফল। এর পেছনে শুধু ধর্ম নয়, বরং সন্ত্রাসবাদ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক বৈষম্যও বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে রইল ভারত

নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান হত্যার অভিযোগে সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:৪১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নাইজেরিয়ার সরকার যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশটিকে দেওয়া মার্কিন সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে এবং একইসাথে সেখানে দ্রুত ও “নির্মম” হামলা চালানো হতে পারে। রবিবার (২ নভেম্বর) আল-জাজিরা এবং আনাদোলু এজেন্সি (এএ) তাদের প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে।

ওই সংবাদমাধ্যম দুটি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই হুমকির ঠিক একদিন আগেই, এই মার্কিন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন যে নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে এবং উগ্র ইসলামপন্থীদের হামলায় সেখানে হাজার হাজার খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেখেন, নাইজেরিয়ার সরকার যদি খ্রিস্টানদের হত্যা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে দেওয়া সব ধরনের সাহায্য সাথে সাথেই বন্ধ করে দেবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা খুব সম্ভবত ওই লজ্জিত দেশে প্রবেশ করবো—‘বন্দুক গর্জে উঠবে’, যাতে ইসলামি সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা যায়, যারা এসব ভয়াবহ নৃশংসতা চালাচ্ছে।”

তবে তিনি ঠিক কোন গোষ্ঠী বা কোন ঘটনাকে “নৃশংসতা” বলছেন, তা পরিষ্কার করে উল্লেখ করেননি।

ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি আমাদের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ারকে সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিচ্ছি। যদি আমরা হামলা চালাই, তা হবে দ্রুত, নির্মম এবং মধুর— যেমনভাবে ওই সন্ত্রাসীরা আমাদের প্রিয় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। সতর্কবার্তা: নাইজেরিয়ার সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিক!”

ট্রাম্পের এই হুমকির বিষয়ে নাইজেরিয়ার সরকার অবশ্য এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এর মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, আফ্রিকার শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী এবং সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে যাচ্ছে।

আসলে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু ডানপন্থি রাজনীতিক এবং প্রভাবশালী মহল এই দাবি করে আসছে যে, নাইজেরিয়ার সহিংসতার ঘটনাগুলো মূলত “খ্রিস্টান গণহত্যার” একটি অংশ।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। তারা বলছে, নাইজেরিয়ায় বহু বছর ধরে যে সহিংসতা চলছে তা আসলে দীর্ঘদিনের জটিল এক নিরাপত্তা সমস্যার ফল। এর পেছনে শুধু ধর্ম নয়, বরং সন্ত্রাসবাদ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক বৈষম্যও বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।