ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লা-১: নির্বাচনি প্রচারে নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দাউদকান্দি উপজেলার ষোলপাড়ায় অবস্থিত নির্বাচনি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা জেলার কর্মপরিষদ ও শূরা সদস্য বিলকিস আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রচার চলাকালে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি সমর্থিত কতিপয় ব্যক্তি নারী কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা ও হয়রানি চালাচ্ছে। এতে সাধারণ নারী ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে গত কয়েক দিনের বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিটেশ্বর ইউনিয়নের নৈয়ার গ্রামে এবং ৩১ জানুয়ারি গৌরীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এছাড়া পদুয়া ইউনিয়নে জামায়াত নেতার দোকানে হামলা, সুন্দলপুর ইউনিয়নের বড়গোয়ালী, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের হরিনা বাজারখোলা ও জিংলাতুলী গ্রামেও প্রচার কাজে বাধা ও কর্মীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।

মেঘনা উপজেলার বড়কান্দা ইউনিয়নে সংগঠিত একটি ঘটনার উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ জানান, সেখানে মাইকিং করে প্রচার চালানোর সময় নারী কর্মীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এমনকি হিজাব ধরে টানাটানি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁদের অবমাননা করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

মহিলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে নির্বাচনি এলাকায় সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাঁরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে সব অন্যায় ও অত্যাচারের জবাব দিতে নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি কল্যাণমুখী ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনের লড়াইয়ে কোনো হুমকি বা বাধার কাছে তাঁরা নতি স্বীকার করবেন না। সব প্রতিকূলতা জয় করে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াত মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ফাতেমা জাহান, পৌরসভা শাখার সেক্রেটারি শিরিন হক, সহ-সেক্রেটারি খোরশেদা আক্তার এবং সাবেক সেক্রেটারি হাসিনা মমতাজ লাকিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ উপলক্ষে বুড়িমারী স্থলবন্দরে ১১ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, সচল থাকছে যাত্রী পারাপার

কুমিল্লা-১: নির্বাচনি প্রচারে নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দাউদকান্দি উপজেলার ষোলপাড়ায় অবস্থিত নির্বাচনি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা জেলার কর্মপরিষদ ও শূরা সদস্য বিলকিস আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রচার চলাকালে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি সমর্থিত কতিপয় ব্যক্তি নারী কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা ও হয়রানি চালাচ্ছে। এতে সাধারণ নারী ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে গত কয়েক দিনের বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিটেশ্বর ইউনিয়নের নৈয়ার গ্রামে এবং ৩১ জানুয়ারি গৌরীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এছাড়া পদুয়া ইউনিয়নে জামায়াত নেতার দোকানে হামলা, সুন্দলপুর ইউনিয়নের বড়গোয়ালী, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের হরিনা বাজারখোলা ও জিংলাতুলী গ্রামেও প্রচার কাজে বাধা ও কর্মীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।

মেঘনা উপজেলার বড়কান্দা ইউনিয়নে সংগঠিত একটি ঘটনার উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ জানান, সেখানে মাইকিং করে প্রচার চালানোর সময় নারী কর্মীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এমনকি হিজাব ধরে টানাটানি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁদের অবমাননা করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

মহিলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে নির্বাচনি এলাকায় সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাঁরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে সব অন্যায় ও অত্যাচারের জবাব দিতে নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি কল্যাণমুখী ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনের লড়াইয়ে কোনো হুমকি বা বাধার কাছে তাঁরা নতি স্বীকার করবেন না। সব প্রতিকূলতা জয় করে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াত মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ফাতেমা জাহান, পৌরসভা শাখার সেক্রেটারি শিরিন হক, সহ-সেক্রেটারি খোরশেদা আক্তার এবং সাবেক সেক্রেটারি হাসিনা মমতাজ লাকিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।