নাটোর: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কারো দুর্নীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত, যে বা যারাই দুর্নীতি বা লুটপাটে জড়িত থাকবে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জেলা ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান দেশের সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কোটার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর নির্যাতন এবং পরবর্তীতে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপট তিনি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের উপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা দেশবাসী ভুলে যায়নি। সরকার পতনের পর অন্য একটি পক্ষ চাঁদাবাজির সকল দপ্তর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। দেশের মানুষ আর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাট দেখতে চায় না। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দেশের মানুষ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাটে জড়িতদের লাল কার্ড দেখিয়ে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারছে, সভা-সমাবেশে নারীরাও অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মদিনার আদলে দেশ গঠন করে জনগণকে একটি সুসংহত সমাজ উপহার দেবে। তিনি বলেন, রাত-দিন যেকোনো সময় কোনো নারী যেন অসম্মানের শিকার না হন, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নারীর প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান প্রদর্শিত হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে যুবসমাজকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জামায়াত একটি ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত বেকারদের ভাতা দেওয়ার চেয়ে তাদের সুশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে তুলতে চায়। তিনি বলেন, যুবকদের দেশ ও বিদেশের শ্রমবাজারে কাজ পাওয়ার উপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা গর্বের সাথে বলতে পারে “আমিই বাংলাদেশ”।
তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজ জন্মগতভাবেই সাহসী, উদ্যোমী ও উদ্যোগী। তাদের প্রয়োজন শুধু সঠিক শিক্ষা, যা জামায়াত নিশ্চিত করবে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রতিটি শিশু এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সকল নাগরিকের সুচিকিৎসার দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।
এসব মহৎ উদ্দেশ্য সাধনে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে না উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে যদি দুর্নীতি ও ব্যাংক লুটপাট বন্ধ করা যায়, তবে অর্থের কোনো অভাব হবে না। তিনি বলেন, একটি পক্ষ চাকুরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। তিনি সকলকে ভাই ভাই হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কেউ কারো বিরোধী নয়। পে-স্কেলের জন্য আন্দোলন করতে হবে না, দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং প্রত্যেকে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে পাবে। তিনি বলেন, চোর চুরি করলে আগে তার মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা আছে কিনা, তা দেখতে হবে। খাবার না দিয়ে চোরের বিচার করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের পরিপন্থী। রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমাতে জামায়াত সরকার নাটোরসহ দেশের ৬৪ জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলিম—সকলেই একই বাগানের একেকটি ফুল। কাউকে কোনোভাবে বঞ্চিত করা হবে না এবং বঞ্চনার সুযোগও কাউকে দেওয়া হবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, দেশে দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ হলে বাংলাদেশ রকেটের গতিতে এগিয়ে যাবে। জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের বিষয়েও কোনো অবহেলা করা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সারা দেশে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে এক অভূতপূর্ব জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সত্যের পথে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে রাস্তায় নেমে আসছে, যা প্রতিটি সভা-সমাবেশে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শেষে ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা রেখে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 






















