ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

খাগড়াছড়িতে জাতীয় নির্বাচন: ১২১ ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, ৬৮টি ‘রেড মার্ক’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

খাগড়াছড়ি (২৯৮নং সংসদীয়) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। আসনটির ১২১টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রকে ‘রেড মার্ক’ অর্থাৎ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসনটির প্রার্থীরা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য ছয় দফা দাবি জানান। খাগড়াছড়ি আইনজীবী সমিতির ব্যানারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এছাড়া, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা, গণপরিষদের প্রার্থী দীনময় রোয়াজা এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নুরুল ইসলামসহ মোট চারজন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, খাগড়াছড়ি আসনে মোট ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৮টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে। অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু সশস্ত্র সংগঠন তাদের পছন্দের প্রার্থীর অনুকূলে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি প্রদান এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছে।

২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে প্রার্থীরা বলেন, সে সময়ও এই সশস্ত্র সংগঠনগুলো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেছিল এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং এবারও নির্বাচনের দিনটিকে অস্থিতিশীল করার নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

প্রার্থীদের অভিযোগ, খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি, পানছড়ি, লক্ষীছড়ি, দীঘিনালা ও রামগড়ের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তারা নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। সুনির্দিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করতে শারীরিক অত্যাচার, আর্থিক দণ্ডের ভয় দেখানো হচ্ছে। এছাড়াও, অস্ত্রধারীরা স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারী ও জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভীতিমূলক প্রচার চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:

দুর্গম এলাকায় নিয়মিত মোবাইল টহল বৃদ্ধি করা।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা।
হেডম্যান, কার্বারী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি আস্থাশীল পরিবেশ তৈরি করা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ ও নজরদারি বৃদ্ধি করা।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রার্থীরা আশা প্রকাশ করেন যে, তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেঘনায় জাটকা নিধন রোধে নৌ পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ২৫ জেলে আটক, জাল জব্দ

খাগড়াছড়িতে জাতীয় নির্বাচন: ১২১ ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, ৬৮টি ‘রেড মার্ক’

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খাগড়াছড়ি (২৯৮নং সংসদীয়) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। আসনটির ১২১টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রকে ‘রেড মার্ক’ অর্থাৎ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসনটির প্রার্থীরা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য ছয় দফা দাবি জানান। খাগড়াছড়ি আইনজীবী সমিতির ব্যানারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এছাড়া, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা, গণপরিষদের প্রার্থী দীনময় রোয়াজা এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নুরুল ইসলামসহ মোট চারজন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, খাগড়াছড়ি আসনে মোট ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৮টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে। অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু সশস্ত্র সংগঠন তাদের পছন্দের প্রার্থীর অনুকূলে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি প্রদান এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছে।

২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে প্রার্থীরা বলেন, সে সময়ও এই সশস্ত্র সংগঠনগুলো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেছিল এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং এবারও নির্বাচনের দিনটিকে অস্থিতিশীল করার নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

প্রার্থীদের অভিযোগ, খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি, পানছড়ি, লক্ষীছড়ি, দীঘিনালা ও রামগড়ের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তারা নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। সুনির্দিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করতে শারীরিক অত্যাচার, আর্থিক দণ্ডের ভয় দেখানো হচ্ছে। এছাড়াও, অস্ত্রধারীরা স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারী ও জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভীতিমূলক প্রচার চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:

দুর্গম এলাকায় নিয়মিত মোবাইল টহল বৃদ্ধি করা।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা।
হেডম্যান, কার্বারী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি আস্থাশীল পরিবেশ তৈরি করা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ ও নজরদারি বৃদ্ধি করা।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রার্থীরা আশা প্রকাশ করেন যে, তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে।