বিগত সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মী ১ লাখেরও বেশি মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি ও পাবনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে দুই হাজার প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ নতুন এক স্বাধীনতা পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে পাবনার চাটমোহরে নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পাবনা-৩ এলাকার (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) সার্বিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী ভাবনা তুলে ধরতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
হাসান জাফির তুহিন অভিযোগ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে দীর্ঘ সময় কারারুদ্ধ রাখা হয়েছিল এবং তাকে সুচিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে ১২টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এর অনেকগুলোই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কোনোটি নিশি রাতে, কোনোটি একতরফা, আবার কোনোটি দিনের ভোট রাতে হওয়ার মতো নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম।
পাবনা-৩ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর অঞ্চলে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। ভোটের দিন পর্যন্ত এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।” বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি অন্য প্রার্থীদেরও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাসান জাফির তুহিন বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে চলনবিল অঞ্চলের উন্নয়নে একটি সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করব। কৃষি ও নদীর উন্নয়ন, খাল খনন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি আমার অগ্রাধিকার হবে। এছাড়া চলনবিলকে একটি অর্থনৈতিক হাবে রূপান্তরসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান পাল্টে দেওয়া হবে।”
বিলচলন ইউনিয়নের বোথড় গ্রামে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা (চাটমোহর), নূর মুজাহিদ স্বপন (ভাঙ্গুড়া), জহুরুল ইসলাম বকুল (ফরিদপুর), বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু ও অধ্যক্ষ মাহমুদুল আলমসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 





















