মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ও ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ তাদের জনবল ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় ১৪৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি এবার তাদের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই আকস্মিক পদক্ষেপে খোদ প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার কর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল (জুম) বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে। বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, নিউজরুমের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং এর অংশ হিসেবেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীকে বিদায় নিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই ছাঁটাইয়ের আগে পত্রিকাটির নিউজরুমে প্রায় ৮০০ জন সাংবাদিক কর্মরত ছিলেন।
কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমটির ভেতরে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পত্রিকার নির্বাহীরা একে ব্যবসায়িক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করলেও, অনেক কর্মী ও বিশেষজ্ঞ এর পেছনে ভিন্ন কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন। বিশেষ করে, এটি কেবল আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ নাকি এর পেছনে কোনো আদর্শিক বা নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যম পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
দীর্ঘ দেড় শতাব্দীর প্রাচীন এই সংবাদপত্রের এমন গণছাঁটাইয়ের খবরটি মার্কিন মিডিয়া জগতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যমের এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। তবে বিপুল সংখ্যক অভিজ্ঞ কর্মীকে একসঙ্গে ছাঁটাই করার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সম্পাদকীয় মান ও পেশাদারিত্বের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















