জাপানে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। জনমত জরিপগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন কট্টর-রক্ষণশীল দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করতে পারে। দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি গত অক্টোবর মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তারুণ্যে হেভি মেটাল ড্রামার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের অনুরাগী হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। সাধারণ জাপানিদের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন।
নির্বাচনী জরিপগুলো বলছে, এলডিপি এবং তাদের জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি) সম্মিলিতভাবে ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টিরও বেশি আসন পেতে পারে। এই ফলাফল তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল সিডিপি এবং কোমেইতো মিলে গঠিত নতুন জোটের বর্তমান ১৬৭টি আসনের প্রায় অর্ধেক হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, চীনের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তাকাইচি ইয়াসুকুনি মন্দিরে নিয়মিত যাতায়াত করতেন, যা আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্পর্শকাতর বিষয়। তিনি সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করলে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির নীতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পর বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জাপানি ইয়েনের মানে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। জাপানের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় ঋণের অনুপাত এমনিতেই অনেক বেশি, এবং চলতি অর্থবছরে তা ২৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যদিও বাজারের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ‘অর্থনৈতিকভাবে বেপরোয়া’ হবেন না এবং সরকারের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপগুলো বন্ড বাজারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















