কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এম এ গনি সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই উঠে যেতে শুরু করেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। দরপত্রের শর্তাবলী উপেক্ষা করে, নির্ধারিত মান বজায় না রেখে এবং রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি কাজ শেষ করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটির কার্পেটিং কাজে ব্যবহৃত বিটুমিনের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে কাজ শেষ করায় কার্পেটিং এতটাই দুর্বল হয়েছে যে, সামান্য ঘষা বা টান দিলেই পিচ উঠে আসছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী রাস্তার কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ৫০ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে অনেক স্থানে মাত্র ২০-২৫ মিলিমিটার এবং কোথাও কোথাও ৫-৭ মিলিমিটার পুরুত্বের কাজ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
সম্প্রতি, গভীর রাতে কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার সোনার বাংলা কলেজের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী দেখতে পান, সদ্য কার্পেটিং করা রাস্তায় আবারও কাজ চলছে। এ বিষয়ে কর্মরত ঠিকাদারের সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ওই অংশের কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুনরায় মেরামত করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাধা ও আপত্তি সত্ত্বেও ঠিকাদারের লোকজন রাতের অন্ধকারে নিম্নমানের পিচ ব্যবহার করে মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা কাজের স্বচ্ছতা ও মান নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তুলেছে। এভাবে কাজ চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া সড়কটি এই অঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সড়কটির কাজ শুরু হলেও, এক সপ্তাহের মধ্যেই এর বেহাল দশা সবার চোখে পড়েছে। নিম্নমানের পিচ ঢালাইয়ের ফল এখন স্পষ্ট। কাজের সময় অনিয়মের কথা জানানো হলেও, তখন তাদের কথায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, কাজ শেষ হওয়ার পর কার্পেটিং তুলে আবার মেরামতের কোনো বিধান নেই। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রাস্তার কাজের মান যাচাই করা হোক এবং দায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তা না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















