বিশ্বের দুই শীর্ষ শক্তিধর দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদিত ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) নামক এই চুক্তির সময়সীমা পার হওয়ার পর মস্কো জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে তারা এখন থেকে আর কোনো আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ নয়। গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তির অবসান হওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে এই চুক্তির কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কৌশলগত এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র বা ওয়ারহেড মোতায়েনের সংখ্যার ওপর কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা থাকছে না। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পারমাণবিক ভারসাম্য বজায় রাখার শেষ আইনি কাঠামোটিও ভেঙে পড়ল।
মস্কোর দাবি অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চুক্তির মেয়াদ আরও ১২ মাস বাড়ানোর একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ওয়ারহেড মোতায়েনের বর্তমান সীমা অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবে ইতিবাচক কোনো সাড়া দেয়নি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় চুক্তিটি নবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছে মস্কো।
এদিকে, বিশ্বের দুই প্রধান পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যকার এই সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এ ধরনের চুক্তির অনুপস্থিতি বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো কার্যকর রূপরেখা দ্রুত তৈরি করা না হলে বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টারের নাম 























