ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জার্মানির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি এড়াতে চীনকে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সর্বশেষ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীনের প্রতি অস্ত্র উন্নয়নে ‘সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে নতুন কোনো চুক্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেইজিং প্রায়ই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহুপাক্ষিকতার কথা বলে থাকে। এখন সময় এসেছে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রমাণ দেওয়া। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে চীনকে অবশ্যই সংযম দেখাতে হবে এবং ভবিষ্যতের সব অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে বুধবার একই ইস্যুতে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতায় চীনকে বাদ দিয়ে কোনো কার্যকর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন। রুবিও উল্লেখ করেন, চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার অত্যন্ত দ্রুত ও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আনছে। প্রেসিডেন্টও এ বিষয়ে আগে থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের কাছে বর্তমানে প্রায় ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার (উভয় দেশের প্রায় ৮০০টি করে) তুলনায় কম, তবে বেইজিংয়ের এই সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি ভাবিয়ে তুলছে পশ্চিমা বিশ্বকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ফ্রান্স ও ব্রিটেনের কাছেও যৌথভাবে প্রায় ১০০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

নিরস্ত্রীকরণকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে বিশ্ব এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে চীন যদি তাদের অস্ত্রভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করার পথে হাঁটে, তবে তা বৈশ্বিক পারমাণবিক প্রতিযোগিতাকে আরও উসকে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একটি নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও পাম্পে অকটেনের হাহাকার: কারণ কী?

পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জার্মানির

আপডেট সময় : ১০:২৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি এড়াতে চীনকে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সর্বশেষ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীনের প্রতি অস্ত্র উন্নয়নে ‘সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে নতুন কোনো চুক্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেইজিং প্রায়ই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহুপাক্ষিকতার কথা বলে থাকে। এখন সময় এসেছে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রমাণ দেওয়া। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে চীনকে অবশ্যই সংযম দেখাতে হবে এবং ভবিষ্যতের সব অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে বুধবার একই ইস্যুতে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতায় চীনকে বাদ দিয়ে কোনো কার্যকর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন। রুবিও উল্লেখ করেন, চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার অত্যন্ত দ্রুত ও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আনছে। প্রেসিডেন্টও এ বিষয়ে আগে থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের কাছে বর্তমানে প্রায় ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার (উভয় দেশের প্রায় ৮০০টি করে) তুলনায় কম, তবে বেইজিংয়ের এই সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি ভাবিয়ে তুলছে পশ্চিমা বিশ্বকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ফ্রান্স ও ব্রিটেনের কাছেও যৌথভাবে প্রায় ১০০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

নিরস্ত্রীকরণকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে বিশ্ব এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে চীন যদি তাদের অস্ত্রভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করার পথে হাঁটে, তবে তা বৈশ্বিক পারমাণবিক প্রতিযোগিতাকে আরও উসকে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একটি নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।