লিবিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির পুত্র ও দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে নিজ বাসভবনে চারজন মুখোশধারী সশস্ত্র হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। লিবিয়ার আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে যার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছিল, তার এই আকস্মিক প্রয়াণে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে সাইফ আল-ইসলামের বাসভবনে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করে ভেতরে প্রবেশ করে। রাজনৈতিক দলটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর আগে হামলাকারীদের সঙ্গে সাইফের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সাইফের আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
লিবিয়ার শান্তি প্রক্রিয়ায় গাদ্দাফিপন্থিদের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ ওথমান আবদুর রহিম এই ঘটনাকে একটি ‘কাপুরুষোচিত ও সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, হামলাকারীরা সরাসরি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই বাসভবনে প্রবেশ করেছিল। তবে সাইফের মৃত্যুর স্থান নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন তার বোন। তিনি লিবিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন, আলজেরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় সাইফ নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশটির উচ্চ রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিসরি একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
১৯৭২ সালে ত্রিপোলিতে জন্মগ্রহণ করা সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী সাইফ ২০১১ সালে তার পিতার পতনের পর লিবিয়ার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী চরিত্রে পরিণত হন। ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি নাইজারে পালিয়ে যাওয়ার সময় জিনতানের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে আটক হন এবং দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও সাইফ আল-ইসলাম লিবিয়ার রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার এই মৃত্যু লিবিয়ার বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় গাদ্দাফি পরিবার লিবিয়া শাসন করলেও ২০১১ সালের ন্যাটোর হস্তক্ষেপের পর থেকে দেশটি চরম অরাজকতা ও গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্যের লড়াইয়ের মধ্যে সাইফের এই মৃত্যু গাদ্দাফিপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে আরও সংঘাতমুখী করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























