ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

হাইতির উপকূলে মার্কিন নৌবহর: গ্যাং সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাড়ছে উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

হাইতির উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির গভীর রাজনৈতিক সংকট এবং ক্রমবর্ধমান গ্যাং সহিংসতার মধ্যে এই পদক্ষেপ উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ইউএসএস স্টকডেল, ইউএসসিজিসি স্টোন এবং ইউএসসিজিসি ডিলিজেন্স নামের জাহাজগুলো পোর্ট-অ-প্রিন্স উপসাগরে প্রবেশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, এই নৌবহরের উপস্থিতি “হাইতির নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

দূতাবাসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে এই নৌবহর পাঠানো হয়েছে। এটি ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অংশ, যা ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযান। এই অভিযানের আওতায় নৌযানে চালানো অভিযানে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিনের সহিংসতা ও অস্থিরতার পর হাইতি বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশটির প্রেসিডেনশিয়াল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের মেয়াদ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গ্যাং সহিংসতার চাপে ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল অঁরি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ২০১৬ সালের পর থেকে দেশে আর কোনো নির্বাচন না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে।

পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত হাইতির বহু এলাকা বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে। এসব গ্যাং হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র হাইতির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, ওই কর্মকর্তারা নানাভাবে সশস্ত্র গ্যাংগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা তাদের সমর্থন দিচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও পাম্পে অকটেনের হাহাকার: কারণ কী?

হাইতির উপকূলে মার্কিন নৌবহর: গ্যাং সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হাইতির উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির গভীর রাজনৈতিক সংকট এবং ক্রমবর্ধমান গ্যাং সহিংসতার মধ্যে এই পদক্ষেপ উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ইউএসএস স্টকডেল, ইউএসসিজিসি স্টোন এবং ইউএসসিজিসি ডিলিজেন্স নামের জাহাজগুলো পোর্ট-অ-প্রিন্স উপসাগরে প্রবেশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, এই নৌবহরের উপস্থিতি “হাইতির নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

দূতাবাসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে এই নৌবহর পাঠানো হয়েছে। এটি ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অংশ, যা ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযান। এই অভিযানের আওতায় নৌযানে চালানো অভিযানে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিনের সহিংসতা ও অস্থিরতার পর হাইতি বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশটির প্রেসিডেনশিয়াল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের মেয়াদ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গ্যাং সহিংসতার চাপে ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল অঁরি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ২০১৬ সালের পর থেকে দেশে আর কোনো নির্বাচন না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে।

পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত হাইতির বহু এলাকা বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে। এসব গ্যাং হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র হাইতির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, ওই কর্মকর্তারা নানাভাবে সশস্ত্র গ্যাংগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা তাদের সমর্থন দিচ্ছেন।