বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং বন্দর কর্মচারীদের গণহারে বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে এই কর্মসূচির ঘোষণা আসার পর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বলেন, বন্দরের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। একই সংগঠনের আরেক সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর উল্লেখ করেন, সরকার এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া থেকে সরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে। তিনি দাবি করেন, বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।
টানা তিন দিন ধরে চলা অবরোধ ও কর্মবিরতির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে তীব্র স্থবিরতা বিরাজ করছে। বন্দরের অভ্যন্তরে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং পণ্যবাহী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে শ্রমিকরা তিন দিন ধরে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মসূচি পালিত হয়। ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা আসে। এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা এই কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল এবং স্কপের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় থেকে তাদের মংলা ও পায়রা বন্দরে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা এখনো নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এই বিঘ্ন ঘটায় ব্যবসায়ী মহল ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























