ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য: বেলা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জোর দাবি

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থাকে পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ করে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই আহ্বান জানান। একই সাথে নগরীর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী দিঘি ও জলাধার পুনরুদ্ধারের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

সোমবার লালখান বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের নগর-পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সভায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে প্রায় ২১ হাজার পুকুর ও জলাশয় হারিয়ে গেছে। শুধু আইন প্রয়োগ বা জরিমানা করে পুকুর-জলাশয় রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জলাধার সংরক্ষণকারীদের উৎসাহিত করতে বিকল্প পন্থা গ্রহণ করতে হবে।

বক্তারা প্রস্তাব করেন, যারা নিজেদের প্লটে পুকুর সংরক্ষণ করবেন, তাদের হোল্ডিং ট্যাক্সে ছাড় এবং প্লটের নকশা অনুমোদনে বিশেষ সুবিধা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি অন্যদের কাছ থেকে পরিবেশ সারচার্জ আদায় করে সেই অর্থ পুকুর সংরক্ষণকারীদের প্রণোদনা হিসেবে দেওয়ার নীতি চালুর ওপরও জোর দেন তারা। নগরীর গ্রিন জোন ও ওয়াটার রিজার্ভ এলাকা সংরক্ষণের তাগিদও দেওয়া হয়।

হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং অবশিষ্ট জলাশয়গুলো রক্ষায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) পক্ষ থেকে নগরীর মেগা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সিডিএ অংশের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মইনুদ্দিন প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেন।

বেলার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন রূবার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের (নগর) সহকারী পরিচালক রোমানা আক্তার এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী কাইসার আহমেদ। এছাড়া সভায় চট্টগ্রাম নগরীর সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সমাজকর্মী, শিক্ষক, টেলিভিশন উপস্থাপিকাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান সংস্কার ছাড়া ফ্যাসিবাদী চরিত্র দূর হবে না: গোলাম পরওয়ার

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য: বেলা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জোর দাবি

আপডেট সময় : ০৭:০৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থাকে পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ করে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই আহ্বান জানান। একই সাথে নগরীর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী দিঘি ও জলাধার পুনরুদ্ধারের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

সোমবার লালখান বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের নগর-পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সভায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে প্রায় ২১ হাজার পুকুর ও জলাশয় হারিয়ে গেছে। শুধু আইন প্রয়োগ বা জরিমানা করে পুকুর-জলাশয় রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জলাধার সংরক্ষণকারীদের উৎসাহিত করতে বিকল্প পন্থা গ্রহণ করতে হবে।

বক্তারা প্রস্তাব করেন, যারা নিজেদের প্লটে পুকুর সংরক্ষণ করবেন, তাদের হোল্ডিং ট্যাক্সে ছাড় এবং প্লটের নকশা অনুমোদনে বিশেষ সুবিধা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি অন্যদের কাছ থেকে পরিবেশ সারচার্জ আদায় করে সেই অর্থ পুকুর সংরক্ষণকারীদের প্রণোদনা হিসেবে দেওয়ার নীতি চালুর ওপরও জোর দেন তারা। নগরীর গ্রিন জোন ও ওয়াটার রিজার্ভ এলাকা সংরক্ষণের তাগিদও দেওয়া হয়।

হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং অবশিষ্ট জলাশয়গুলো রক্ষায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) পক্ষ থেকে নগরীর মেগা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সিডিএ অংশের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মইনুদ্দিন প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেন।

বেলার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন রূবার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের (নগর) সহকারী পরিচালক রোমানা আক্তার এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী কাইসার আহমেদ। এছাড়া সভায় চট্টগ্রাম নগরীর সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সমাজকর্মী, শিক্ষক, টেলিভিশন উপস্থাপিকাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।