ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.): শেষ দিনগুলোর অনবদ্য ইতিহাস

৬৩৪ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাস। মুসলিম বাহিনী তখন সেনাপতি খালেদ ইবনে ওয়ালিদের নেতৃত্বে আজনাদাইনের যুদ্ধে বিজয় অর্জন করে দামেশকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২১ আগস্ট তারা দামেশক অবরোধ করে। ঠিক সেই সময়ে, শত মাইল দূরে মদিনার শান্ত পরিবেশে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। একসময় নবীজি (সা.)-এর পদচারণায় মুখরিত মদিনার গলিগুলোয় তখন গুমোট নীরবতা। ইসলামের প্রথম খলিফা, ‘সিদ্দিকে আকবার’ আবু বকর (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী।

৭ জমাদিউল আখির ১৩ হিজরি (৬৩৪ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট) থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। মদিনার মানুষ, যারা রিদ্দা যুদ্ধের বিভীষিকা কাটিয়ে ইসলামের সংহতি দেখেছিল, তারা বুঝতে পারছিল—তাদের প্রিয় নেতা আর বেশিদিন তাদের মাঝে নেই। একদিকে শামের রণাঙ্গনে মুসলিম ঘোড়সওয়ারদের বিজয়ের সুসংবাদ, আর অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববির মেহরাবে ইমামের জায়নামাজে আবু বকর (রা.)-এর অনুপস্থিতি—ইতিহাসের এই দুই ধারা তখন একে অপরের সঙ্গে মিশে তৈরি করছিল এক বিষাদসিন্ধু।

আবু বকর (রা.)-এর ব্যক্তিত্বে ছিল অনন্য বৈপরীত্য। একদিকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কোমলহৃদয় ও অশ্রুসজল, তেমনি সংকটের মুহূর্তে হয়ে উঠতেন পাথরের মতো অটল ও বজ্রকঠিন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর যখন সমগ্র আরব উপদ্বীপ অস্থিরতায় নিমজ্জিত, তখন আবু বকর (রা.)-ই উম্মাহকে সঠিক পথনির্দেশনা দেন। তাঁর রাষ্ট্রনায়কত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিল রিদ্দা যুদ্ধের ক্ষেত্রে আপসহীন নেতৃত্ব। আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি শুধু আরবের বিদ্রোহ দমন করেননি, বরং ইসলামের বিশ্বব্যাপী বিস্তারের ভিত্তিও সুদৃঢ় করেছিলেন।

আচরণ, চরিত্র ও অবদানে তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে কাছের মানুষদের একজন। তাঁর সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আবু বকরের অনুগ্রহ ছাড়া আমি প্রত্যেকের অনুগ্রহের প্রতিদান দিয়েছি। আমার ওপর তার এমন অনুগ্রহ রয়েছে, যার প্রতিদান কিয়ামতের দিন আল্লাহই দান করবেন।’

মদিনার মাটিতে বসে তিনি দূরদূরান্তের বিভিন্ন অঞ্চলের জটিলতা সহজভাবে সামলে নিতেন। তিনি দ্রুতগতিতে সংবাদ আদান-প্রদানের মাধ্যমে সামরিক কর্মকর্তাদের রদবদল করতেন। আরব-অনারব, শাম ও রোমের বিজয়াভিযানে অনেক হাই মিলিটারি এক্সপার্ট ব্রেইনও তাঁর পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতা মোকাবিলা করতে পারেনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান সংস্কার ছাড়া ফ্যাসিবাদী চরিত্র দূর হবে না: গোলাম পরওয়ার

ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.): শেষ দিনগুলোর অনবদ্য ইতিহাস

আপডেট সময় : ০৭:০৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

৬৩৪ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাস। মুসলিম বাহিনী তখন সেনাপতি খালেদ ইবনে ওয়ালিদের নেতৃত্বে আজনাদাইনের যুদ্ধে বিজয় অর্জন করে দামেশকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২১ আগস্ট তারা দামেশক অবরোধ করে। ঠিক সেই সময়ে, শত মাইল দূরে মদিনার শান্ত পরিবেশে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। একসময় নবীজি (সা.)-এর পদচারণায় মুখরিত মদিনার গলিগুলোয় তখন গুমোট নীরবতা। ইসলামের প্রথম খলিফা, ‘সিদ্দিকে আকবার’ আবু বকর (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী।

৭ জমাদিউল আখির ১৩ হিজরি (৬৩৪ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট) থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। মদিনার মানুষ, যারা রিদ্দা যুদ্ধের বিভীষিকা কাটিয়ে ইসলামের সংহতি দেখেছিল, তারা বুঝতে পারছিল—তাদের প্রিয় নেতা আর বেশিদিন তাদের মাঝে নেই। একদিকে শামের রণাঙ্গনে মুসলিম ঘোড়সওয়ারদের বিজয়ের সুসংবাদ, আর অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববির মেহরাবে ইমামের জায়নামাজে আবু বকর (রা.)-এর অনুপস্থিতি—ইতিহাসের এই দুই ধারা তখন একে অপরের সঙ্গে মিশে তৈরি করছিল এক বিষাদসিন্ধু।

আবু বকর (রা.)-এর ব্যক্তিত্বে ছিল অনন্য বৈপরীত্য। একদিকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কোমলহৃদয় ও অশ্রুসজল, তেমনি সংকটের মুহূর্তে হয়ে উঠতেন পাথরের মতো অটল ও বজ্রকঠিন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর যখন সমগ্র আরব উপদ্বীপ অস্থিরতায় নিমজ্জিত, তখন আবু বকর (রা.)-ই উম্মাহকে সঠিক পথনির্দেশনা দেন। তাঁর রাষ্ট্রনায়কত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিল রিদ্দা যুদ্ধের ক্ষেত্রে আপসহীন নেতৃত্ব। আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি শুধু আরবের বিদ্রোহ দমন করেননি, বরং ইসলামের বিশ্বব্যাপী বিস্তারের ভিত্তিও সুদৃঢ় করেছিলেন।

আচরণ, চরিত্র ও অবদানে তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে কাছের মানুষদের একজন। তাঁর সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আবু বকরের অনুগ্রহ ছাড়া আমি প্রত্যেকের অনুগ্রহের প্রতিদান দিয়েছি। আমার ওপর তার এমন অনুগ্রহ রয়েছে, যার প্রতিদান কিয়ামতের দিন আল্লাহই দান করবেন।’

মদিনার মাটিতে বসে তিনি দূরদূরান্তের বিভিন্ন অঞ্চলের জটিলতা সহজভাবে সামলে নিতেন। তিনি দ্রুতগতিতে সংবাদ আদান-প্রদানের মাধ্যমে সামরিক কর্মকর্তাদের রদবদল করতেন। আরব-অনারব, শাম ও রোমের বিজয়াভিযানে অনেক হাই মিলিটারি এক্সপার্ট ব্রেইনও তাঁর পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতা মোকাবিলা করতে পারেনি।